এবার কাশ্মিরে সেনাঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ঠেকালো ভারত

কাশ্মিরের জম্মু বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার একদিন পর আরেকটি হামলা ঠেকিয়েছে ভারত। রবিবার রাতে বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে আসা দুটি ড্রোনকে গুলি ছুড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জম্মু-পাঠানকোট জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কালুচক পুরমণ্ডল রোডে রাতনুচক-কালুচক সেনাঘাঁটির কাছে ড্রোন দুটি দেখা যায়।

শনিবার মধ্য রাতে জম্মু বিমানবন্দরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়। এতে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ভারতের সেনাবাহিনী জানায়, রবিবার রাতেও জম্মুর একটি সেনাঘাঁটির ওপর হামলা চালাতে এসেছিল দুটি ড্রোন। কিন্তু সেনাবাহিনী সতর্ক থাকায় তারা ড্রোন দুটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ড্রোনগুলো তখন পালিয়ে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২৭ জুন মধ্যরাতে রাতনুচক-কালুচক সেনাঘাঁটির কাছে দুটি ড্রোন দেখা যায়। গুলি চালাতেই দুটি ড্রোনই পালিয়েছে। ড্রোন দুটিকে লক্ষ্য করে ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। সেনাবাহিনীর সতর্কতার জন্য বড় হামলা এড়ানো গেছে। কিন্তু সোমবার সকাল পর্যন্ত দুটি ড্রোনের একটিরও হদিস মেলেনি। সেনাঘাঁটি এলাকা এবং তার আশপাশে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

রবিবার বিমানঘাঁটির হামলাটিকে সন্ত্রাসবাদী বলছে স্থানীয় পুলিশ। ওই হামলার পরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি লস্কর-ই তৈয়বার সদস্য।

জম্মু-কাশ্মিরের পুলিশ কর্মকর্তা দিলবাগ সিং জানান, শনিবার গভীর রাতে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদী হামলাই ছিল। ইতোমধ্যে সন্ত্রাস দমন আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।তবে আরও বড় একটি হামলার আশঙ্কা ছিল, তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভিড় এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল লস্করের।

শনিবার রাত দেড়টা নাগাদ বায়ুসেনার ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের পরে তদন্তে নেমে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় দেশি বোমা। শনিবার মধ্যরাতের নাশকতার সঙ্গে এই বোমা উদ্ধারের যোগসাজশ রয়েছে বলেই মনে করছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। ঘটনাটি পৃথকভাবে তদন্ত করছে বিমান বাহিনী, ন্যাশনাল বম্ব ডেটা সেন্টার, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও জম্মু-কাশ্মির পুলিশ।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। এই বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তান সীমান্ত মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। রাতের অন্ধকারে পাকিস্তান থেকেই ড্রোন পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, দ্য ওয়াল।