নিঃসঙ্গ হাতি শঙ্করকে ফেরত পাঠাতে এক ভারতীয় কিশোরীর লড়াই

আফ্রিকার বন থেকে ২৪ বছর আগে বিমানে উড়িয়ে ভারতে আনা হয় শাবক হাতিটি। সেই থেকে দিল্লির চিড়িয়াখানায় শঙ্কর নামের হাতিটি। নিঃসঙ্গ হাতিটিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আদালতে আবেদন করে বসেছেন ‘ইয়ুথ ফর অ্যানিমেল’ এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা নিকিতা ধাওয়ান। এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

দিল্লীর ১৬ বছর বয়সী কিশোরী নিকিতা। হাতিটিকে নিজ বাসস্থানে ফেরতে পাঠাতে এক প্রকার লড়াই করে যাচ্ছেন এই কিশোরী। নিকিতা পিটিশনে অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর শঙ্কর (হাতি) বিচ্ছিন্নভাবে জীবনযাপন করছে। চিড়িয়াখানা থেকে সরিয়ে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পুনর্বাসন করা উচিত। যেখানে আফ্রিকান হাতি রয়েছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ শঙ্কর হাতির ওপর নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ নিকিতার। এ নিয়ে বিবিসি কথা বলতে চাইলে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিকিতা বলেন, শঙ্করকে নিঃসঙ্গ থেকে মুক্তির মধ্যে দিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে চাই। ভারতীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী হাতির অবাধে চলাচলের সুযোগ রয়েছে।

হাতিটি ফেরত পাঠাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন নিকিতা। ছবি সংগৃহীত

১৯৯৮ সালে যখন শঙ্করকে ভারতের আনা হয় তখন একা থাকেনি। তার সঙ্গে আনা হয় বোম্বাই নামক আরেকটি হাতি। কিন্তু ২০০৫ সালে হাতি বোম্বাই মারা যায়। মৃত্যুর কারণ এখনও অজানাই রয়ে গেছে। শঙ্করের নিঃঙ্গতার অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে অথবা ফেরত পাঠানো যায় কিনা, এ নিয়ে গত নভেম্বরে আফ্রিকার চিড়িয়াখানায় চিঠি পাঠান চিড়িয়াখানার পরিচালক সুনীল ঘোষ।

শঙ্কর পরিবেশের কারণে খাপ খেতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন চিড়িয়াখানার কর্মীদের। এরসঙ্গে কিছুটা একমত ওয়ার্ল্ড অ্যানিমেল প্রোটেকশন অফ ইন্ডিয়ার ওয়াইল্ডলাইফ প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক শুভব্রতো ঘোষের। যদি শঙ্করের মুক্তির পক্ষে রায় হয়, তা নজির স্থাপন হবে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি