ভারতের বৃহত্তম ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হবে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি)। এই দফায় রাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ১১টি জেলার ৫৮টি আসনে ভোট হবে। সাত দফার নির্বাচনের প্রথম ধাপের নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস এখবর জানিয়েছে।
ভোটের সময় ও ফল প্রকাশ
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ৫৮টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। করোনায় ভোট নিরাপদ করতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট বিধিমালা জারি করেছে। ভোটগ্রহণ শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়। ভোট গণনা হবে ১০ মার্চ।
বুথ ফেরত জরিপ
উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের বুথ ফেরত জরিফের ফল প্রকাশিত হবে ৭ মার্চ। এর আগে পুরো রাজ্যে সাত ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী
প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের যেসব মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে তাদের মধ্যে রয়েছেন, শ্রীকান্ত শর্মা, সুরেশ রানা, সন্দ্বীপ সিং, কপিল দেব আগারওয়াল, অতুল গর্গ ও চৌধুরী লক্ষী নারাইন।
করোনাভাইরাসের কারণে রোড শো ও সশরীরে র্যালি নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনি প্রচারণা মূলত ছিল ভার্চুয়াল মাধ্যমে। বিজেপির হয়ে শীর্ষ প্রচারক হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) জোটের সমালোচনা করেছেন।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন, মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মনস্থির করে ফেলেছেন। এসপি-আরএলডি জোট প্রচারণায় কৃষক ইস্যু ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিকে আক্রমণ করেছে।
বিএসপি প্রধান মায়াবতী শেষের দিকে প্রচার শুরু করেন।
দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রের নেতৃত্বে কংগ্রেস প্রচার চালিয়েছে। ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের নির্বাচনি প্রচার জনগণের মধ্যে আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
যেসব জেলায় হবে ভোট
পশ্চিমাঞ্চলীয় যেসব জেলায় ভোট হবে সেগুলো হলো শামলি, হাপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মুজাফফর নগর, মিরাট, বাঘপথ, গাজিয়াবাদ, বুলন্দশার, আলিগড়, মথুরা ও আগ্রা।
প্রথম দফার ভোটে জাট প্রভাবিত অঞ্চলে ভোট হচ্ছে। এই এলাকার কৃষকরা কেন্দ্রের কৃষিনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এ দফায় প্রার্থীর সংখ্যা ৬২৩ জন এবং ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ২৭ লাখ।
প্রথম দফার ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিজেপি ও এসপি-আরএলডি জোটের মধ্যে। কিছু আসনে প্রভাব রয়েছে বিএসপির। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই দফার ৫৮টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি পেয়েছিল ৫৩টি এবং সমাজবাদী পার্টি ও বিএসপি পেয়েছিল দুটি করে আসন।