বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবকে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির পঞ্চম মামলাতেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ডোরান্ডা কোষাগার থেকে ১৩৯.৩৫ কোটি রুপি তোলার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার সকালে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে একটি বিশেষ সিবিআই আদালত এই রায় দেন। বিচারক সি কে শশী রায় পড়ার সময় লালু প্রসাদ যাদব আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলায় ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তার নাম দেওয়া হয়েছিল। মোট ৯৯ জন আসামির মধ্যে ২৪ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত অন্যদের মধ্যে সাবেক এমপি জগদীশ শর্মা এবং তৎকালীন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান ধ্রুব ভগত রয়েছেন। তাদের উভয়কেই তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
লালু প্রসাদ যাদবের সাজা শোনানো হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি। তিনি ইতোমধ্যেই ৯৫০ কোটি রুপির পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত আরও চারটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে চাইবাসা কোষাগার থেকে ৩৭.৭ কোটি এবং ৩৩.১৩ কোটি রুপির প্রতারণা, দেওঘর কোষাগার থেকে ৮৯.২৭ কোটি এবং ৩৬ কোটি রুপির দুমকা কোষাগার থেকে প্রতারণা। ২০১৮ সালে দুমকা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে ৬০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছিল।
লালু যাদব আগের চারটি অভিযোগের বিরুদ্ধেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। সম্ভবত এটিকেও তিনি চ্যালেঞ্জ করবেন। সব মামলাই গবাদি পশুর জন্য সরকারি তহবিল লোপাটের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
এখন পর্যন্ত তাকে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া চার মামলাতেই তিনি জামিনে রয়েছেন। লালু প্রসাদ যাদব মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে বিহারের পশুপালন দফতরের তহবিলের সঙ্গে এই মামলাটি জড়িত।
তিনি তার সাজার অংশ হিসেবে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ৩.৫ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন। ৭৩ বছরের এই নেতা ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে তার সাজার বেশিরভাগ সময়টাই ঝাড়খণ্ডের রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে থেকেছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বছরের জানুয়ারিতে তাকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই মামলায় তিন বছরের বেশি সাজা হলে জেলে ফিরতে হবে তাকে। সূত্র: জি নিউজ।