গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ভারতরত্ন। একটা শতাব্দীর আর কেউ রইলেন না। আমি ভাবতেই পারছি না।’ দুঃসংবাদ পেয়েই উত্তরবঙ্গের কর্মসূচি কাটছাঁট করে বুধবার কলকাতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
খবর পাওয়া মাত্রই উত্তরবঙ্গ থেকে শোক প্রকাশ করেন মমতা। কান্না জড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কোভিড থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আস্তে আস্তে সেরে উঠছিলেন। হঠাৎ একদিনে কী হলো জানি না। খবরটা শুনেই খুব খারাপ লাগছে। সন্ধ্যাদি আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। আমাদের সব অনুষ্ঠানে তিনি আসতেন। একটা ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, বোঝানো যাবে না। আমি এখনও মনে করি গীতশ্রী সন্ধ্যো মুখোপাধ্যায় ভারতরত্ন।’
মাধবী মুখোপাধ্যায়
রোজই তার শরীরের খবর নিতাম। গতকালই একমাত্র খোঁজ নিতে পারিনি। আর আজকে তার প্রয়াণের খবর। কী বলবো জানি না। অনেক কিছু মনে পড়ছে। ওর প্রয়াণে বাংলা সংগীত জগতের স্বর্ণযুগের শেষ। এই শূন্যতা কোনও দিন পূরণ হবে না।
রাঘব চট্টোপাধ্যায়
অভিভাবক হারালাম। অনেক কথা মনে পড়ছে। আমার ফোনে এখনও তার ভয়েস রেকর্ডিং রয়েছে। গান নিয়ে প্রচুর কথা হতো। আমি মন দিয়ে শুনতাম। অনেক আলোচনা করতাম। আমাকে অনেক সময়ই গাইড করেছেন তিনি। ওর প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানে আমি যেতাম। মন ভরে গান শুনতাম। আমাকে খুবই ভালবাসতেন তিনি। আমার ফোনে থাকা তার কণ্ঠ রয়ে গেল। অমূল্য সম্পদ।
সৈকত মিত্র
সংগীত জগত আজ শূন্য হয়ে গেল। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় তো আর শুধুই বাংলার সম্পদ নয়, গোটা বিশ্বের। আমরা অভিভাবকহীন হয়ে গেলাম। ছোটবেলা থেকে যেমন দেখেছি, শেষ দিন তেমনই ছিলেন সন্ধ্যা পিসি। খুবই খারাপ লাগছে।
হৈমন্তী শুক্লা
শিল্পীদের কাছে তিনি তো অভিভাবকসম। সাক্ষাৎ সরস্বতী। এই শূন্যতা পূরণ হবে না। ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তবে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের প্রয়াণ হয় না। সারা জীবন বেঁচে থাকেন।
আরতি মুখোপাধ্যায়
কী বলবো, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কেমন আছিস, গানবাজনা কেমন চলছে, এসব খোঁজ নেওয়ার মানুষটি হারিয়ে গেলো। আর কথা হবে না, এটা ভাবতেই সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে।
অভিজিৎ ভট্টাচার্য
আমাদের দেশে যারা সরস্বতী ছিলেন, তারা একে একে চলে গেলেন। প্রথমে লতা মঙ্গেশকর। আর এবার সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। আমরা বিশ্বরত্ন হারালাম। তবে লতাজি, সন্ধ্যাজির মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের মৃত্যু হয় না। চিরকাল এরা অমর হয়ে থাকেন। আমার এখনও মনে আছে, আমাকে একবার তিনি বলেছিলেন, তুমি খুব মিষ্টি গাও।
কুমার শানু
খবরটা পেয়েই মন খারাপ হয়ে গেল। সংগীত জগত তার রত্ন হারাল। আমরা শিল্পীরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম।