পশ্চিমবঙ্গে নিষ্ক্রিয় বিজেপি, শাখা কমলো আরএসএসের

২০২১ সালের বিধানসভায় ভরাডুরি পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় স্তরে বিজেপির নিষ্ক্রিয়তার প্রভাব পড়ছে দলটির মতাদর্শিক সংগঠন বলে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসে। আর ঠিক এই কারণেই বাম জমানার তুলনায় যেভাবে তৃণমূলের সময়কালে আরএসএসের জেলায় জেলায় শাখা বৃদ্ধি ঘটেছিল, তাতে এখন ভাঁটার টান। সারা রাজ্যজুড়েই সম্প্রতি আরএসএসের শাখা সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে, এমনটাই সূত্রের খরব। যদিও কোনও একটি দলের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই শাখা কমেছে রাজ্যজুড়ে এমনটি মানতে নারাজ আরএসএস।

সংঘের হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বিজেপির উত্থান- একথা কোনও দিনই আরএসএস স্বীকার করেনি। তারা বলেন, ‘সংঘ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। রাজনীতি করা সংঘের কাজ নয়।’ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিজেপির ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যে সংঘের কাজে কিছুটা হলেও স্থবিরতা এসেছে। লোকসভা ভোটের আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সংগঠন বিস্তারে ব্যাপক চেষ্টা চালায় আরএসএস। যার ফলে সংঘের রাজ্যজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার নিয়মিত শাখা তৈরি হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের চা বাগান ও জঙ্গল মহলে সংঘের অধীনে থাকা শাখাগুলো ব্যাপক সেবা ও প্রচারমূলক কার্যক্রম চালায়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সংঘের এই সহযোগিতা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রকাশ্যে সংঘের কর্মকর্তরা বিজেপিকে সাহায্য না করলেও, রাজনৈতিক রণকৌশল তৈরি করতে তারা সাহায্য করেন। যার প্রভাব পড়ে লোকসভা ভোটে।

সূত্রের একটি খবর অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক ভোটে হারের পর থেকে বিজেপির মাঠের অনেক কর্মী বসে গেছেন। দলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠী দ্বন্ধ শুরু হয়েছে, অনেকে আবার দল ছেড়ে তৃণমূলমুখী হয়েছেন। বিজেপির মূল চালিকা শক্তি বলে পরিচিত আরএসএসে এর প্রভাব পড়ছে। যেহেতু গেরুয়া শিবিরের একটা বড় অংশ কোন না কোনোভাবে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত, তারা নিয়মিত শাখাতেও যান। এরা উৎসাহ হারানোর ফলেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হাজার খানেক শাখা বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্রের আরও খবর, এই ঘটনায় আরএসএসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস নেতৃত্বকে নাগপুরে কেন্দ্রীয় দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের বার্তা প্রমুখ বিপ্লব রায় বলেন, ‘সংঘ কখনও নিজের কাজে ক্ষুব্ধ হয় না। তারা জানে, তারা কী করছে। যাই ঘটুক না কেন পশ্চিমবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের মনোবল অটুট আছে। বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে এধরণের প্রচার সংবাদমাধ্যমে হচ্ছে। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতজী ইতোমধ্যে উত্তর ও মধ্যবঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করেছেন। সংঘের শাখা আপতদৃষ্টিতে কমেছে বিভিন্ন কারণে। সেটা অন্য কথা। তা নাগপুরও জানে। এসব প্রচার করে কোনও লাভ নেই।’

শাখার সংখ্যা নিয়ে বলতে গিয়ে বিপ্লববাবু বলেন, ‘গত ২৩ জানুয়ারি আমরা দক্ষিণবঙ্গের ৭৪৯ টি শাখায় পালন করেছি। রাজ্যে আমাদের ২২০০ দৈনিক ও সাপ্তাহিক শাখা ছিল। সেটা এখন ১৮০০ হয়েছে কোভিড পরিস্থিতির কারণে। কিন্তু যেখানে শাখা বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্বয়ংসেবকরা সেবামূলক কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষেরা প্রায় আট কোটি সূর্য নমস্কার করেছে।’