হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে সিপিএম!

বিজেপির হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে লড়তে গিয়ে প্রকৃত হিন্দুত্ব দাবি করে ইতোমধ্যেই কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল রামনবমী থেকে হনুমান জয়ন্তীতে অংশ নেওয়া শুধু নয়, ওইসব ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রকাশ্যে পালন শুরু করেছে। হিন্দুদের ভোট ব্যাংক টার্গেট করেই দলগুলোর এমন পদক্ষেপ। এসব থেকে শত হস্তে দূরে থাকা কমরেডরাও এবার সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন!

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্যই সিপিএমের এমন আর্দশিক পরিবর্তন। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সিপিএমের তামিলনাড়ুর রাজ্য সম্পাদক টি বালাকৃষ্ণানের দাবি, ‘মন্দিরগুলোতে সংঘ পরিবারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার লক্ষ্যেই এই সংকল্প!’

সম্প্রতি টি বালাকৃষ্ণান বলেছেন, ‘আরএসএস এবং বিজেপি মন্দির ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে তাদের গেরুয়া পতাকা লাগাচ্ছে। মন্দির ও উৎসবগুলো পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা বুঝতে পারছি শুধু আদর্শ দিয়ে আরএসএস এবং বিজেপিকে এসব থেকে আটকানো যাবে না। আমাদের সাংস্কৃতিক দিক থেকেও তাদের মোকাবিলা করতে হবে। আমরা মন্দিরের উৎসবগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদান গ্রহণ করতে চাইছি। সংঘ পরিবার ব্যাপক মানুষের অসাম্প্রদায়িক অনুভূতিকে আধ্যাত্মিক ধর্মান্ধতায় রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে বামপন্থীদের সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

বালাকৃষ্ণনের দাবি, ‘সিপিএম এটা ভোটের জন্য করছে না। আমরা কোনওভাবেই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জাত-পাতের ভিত্তিতে ভোট চাই না। এখন এমন একটি পরিস্থিতি এসেছে যে, তামিলনাড়ুর মন্দির এবং উৎসবগুলো যা সবসময় ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আধ্যাত্মিক একতাকে প্রতিফলিত করে, তা এখন সাম্প্রদায়িকতার দিকে এগোচ্ছে। একে রক্ষা করার জন্য, আমরা আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছি।’

এর আগে সিপিএমের শাসনাধীন একমাত্র রাজ্য কেরালার রাজ্য সম্পাদক কোডিয়েরি বালাকৃষ্ণান বলেছিলেন, ‘ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই। এমনকি যেসব দলীয় কর্মীরা ধর্মে বিশ্বাস করেন তারা ধর্মীয় স্থান বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেও দলের কোনও আপত্তি নেই। কোনও ভাবনা বা বিশ্বাসের বিরোধী নয় সিপিএম। যারা ধর্ম বিশ্বাস করে বা পালন করে তাদের সদস্যপদ দেওয়া উচিৎ নয়; এমন কথা দলের গঠনতন্ত্রের কোথাও বলা নেই।

লেনিন একবার বলেছিলেন, ‘পুরোহিতরাও কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিতে পারেন।’ কোডিয়েরি বালাকৃষ্ণান বলেন, ‘বেশকিছু রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্ম বিশ্বাসীদের সিপিএম থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। সিপিএম ধর্ম বিরোধী এবং নাস্তিকদের দল বলেও অপপ্রচার করেন অনেকে।’

ধর্মীয় আচার-আচরণ থেকে দূরে থাকা সিপিএমের এ ধরণের বক্তব্যে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একটা সময় প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীকে তারাপীঠের মন্দিরে যাওয়া বা আবদুর রেজ্জাক মোল্লার হজ করতে যাওয়া নিয়ে প্রবল বির্তক হয় সিপিএমের অন্দরে। এজন্য তৎকালীন এই দুই নেতাকে প্রবল সমলোচনার মুখে পড়তে হয়। রেজ্জাক মোল্লা প্রশ্ন তোলেন, ‘সিপিএম করলে কেন ধর্মাচরণ করা যাবে না?’ সেই সময় দলের একাংশের বক্তব্য ছিল, পুজোসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বইয়ের স্টলে বসে মার্কবাদের তত্ত্ব কথা প্রচার না করে সরাসরি ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়া যায়। তাতে জনসংযোগ বাড়বে। দল পৌঁছাবে সাধারণের কাছে।

এখন ধর্মীয় উৎসবে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার নতুন পদক্ষেপের তীব্র সমলোচনা করেছেন সিপিএমের সাবেক নেত্রী এবং বর্তমানে পিডিএসের সম্পাদিকা অনুরাধা দেব। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি মানুষ ধর্মাচরণ করতেই পারেন। এটা তার স্বাধীনতা। কিন্তু দলবেঁধে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা আরএসএসকে ঠেকাতে বা অন্য দলকে আটকাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাবেন,এটা কী ধরণের কথা। এতো রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে দেওয়া। আর্দশহীনতায় ভুগে সিপিএম এখন ভোটের স্বার্থে এ ধরণের কার্যকলাপ শুরু করছে।’