‘খালিস্তান’ গণভোটের ডাক, বন্ধ করা হলো হিমাচল সীমান্ত

ভারতে নিষিদ্ধ একটি গ্রুপ ‘খালিস্তান’ গণভোটের ডাক দিয়েছে। রবিবার হিমাচল রাজ্যের প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভবনে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পর রাত থেকে পার্বত্য রাজ্যটিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে বসানো হয়েছে পুলিশের ব্যারিকেড। রাজ্যের হোটেলসহ সম্ভাব্য গোপন আস্তানাগুলোতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা।

ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত গ্রুপ শিখস ফর জাস্টিস (এসজেএফ) আগামী ৬ জুন হিমাচল প্রদেশে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন করে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে প্রতিবেশি কয়েকটি রাজ্যে খালিস্তানপন্থী সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার হিমাচলের প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভবনের গেটে ও বাউন্ডারি ওয়ালে ‘খালিস্তানের’ পতাকা মোড়ানো পাওয়া যায়। খালিস্তানপন্থী গ্রাফিতিও দেখা যায়। এরপরই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর।

রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় পাঞ্জাব থেকে আসা পর্যটকেরা জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর জানিয়েছেন তিনি প্রতিবেশি রাজ্য জম্মু ও কাশ্মির, লাদাখ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব সীমান্তের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করবেন। পুরো ভারত থেকেই হিমাচলে পরিদর্শনে যান পর্যটকেরা।

গত ২৯ মার্চ হিমাচলে খালিস্তানি পতাকা ওড়ানোর ঘোষণা দেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত গ্রুপ শিখস ফর জাস্টিস (এসজেএফ)। তবে কড়া নিরাপত্তার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

রবিবার সকালে হিন্দিতে এক টুইট বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর লেখেন, ‘রাতের অন্ধকারে ধর্মশালা অ্যাসেম্বলি কমপ্লেক্সের গেটে খালিস্তানের পতাকা ওড়ানোর কাপুরুষোচিত ঘটনার নিন্দা জানাই। এখানে শুধুমাত্র শীতকালীন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, তাই ওই সময়েই আরও নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে’।

আরেক টুইটে তিনি লেখেন, ‘এর সুযোগ নিয়ে এই কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে, কিন্তু আমরা তা বরদাস্ত করব না। অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি সেসব মানুষকে বলতে চাই, সাহস থাকলে রাতের আঁধারে নয়, দিনের আলোয় বের হও।’

সূত্র: এনডিটিভি