ভারতে ব্রিটিশ আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইন স্থগিত

রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা গ্রহণ, তদন্ত অব্যাহত রাখা কিংবা জোরপূর্বক কোনও ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে চালু হওয়া দণ্ডবিধির ১২৪/এ (রাষ্ট্রদ্রোহ) ধারা পুনর্বিবেচনার আগ পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত।

ভারতের প্রধান বিচারপতি এন.ভি রামানার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার এসব আদেশ দিয়েছেন।

আবেদনকারীদের আইনজীবী রেশমি সিং বলেন, বর্তমানে এই আইনে গ্রেফতারকৃতরা জামিনের আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তরা কেবল রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আটক থাকলেই তারা জামিনের আবেদন করতে পারবেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে গত কয়েক দিন ধরে বেশ কয়েকটি আবেদন করা হয়। সরকারি অপব্যবহার এবং খোদ আইন চ্যালেঞ্জ করে করা এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সপ্তাহে আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার জানায় তারা আইনটি পুনরায় পরীক্ষা করে দেখতে আগ্রহী।

আইনজীবী রেশমি সিং বলেন তিনি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ‘উচ্ছ্বসিত এবং খুব স্বস্তি পেয়েছেন’। তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহ আইন প্রত্যাহার করার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।’

ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকার ১৮৬০ সালে আইনটি চালু করেন। এই আইনে অভিযুক্তরা তিন বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি আইনটি অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক এবং অন্য সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আইনের ব্যবহার বেড়েছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এই আইনে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ২০২০ সালে অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ জনে।

সূত্র: সিএনএন