চব্বিশে টার্গেট ৩৬০, প্রবাস যোজনায় শাহ-নাড্ডারা

দিল্লির মসনদে ফেরার জন্য মরিয়া রাহুল গান্ধী যখন ভারত জোড়ো পদযাত্রার মধ্য দিয়ে আসমুদ্র হিমাচল চষে বেড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই উনিশের লোকসভায় প্রাপ্ত আসনকে ছাপিয়ে যেতে নয়া স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে গেরুয়া শিবির। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে দেশজুড়ে ৩৬০টি আসনে জেতার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছেন তারা। আর সেই লক্ষ্যে ৩৬০টি আসনের অন্তর্গত প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে প্রবাস যোজনায় সফর শুরু করেছেন শাহ-নাড্ডারা।

গত উনিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি ১৪৪টি এমন আসন আছে যা বিজেপি অল্প ব্যবধানে হেরেছিল। আবার এই হারা আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে কংগ্রেস। চব্বিশের লোকসভায় কংগ্রেসের হাত থেকে সেই আসনগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে বিজেপি। এই ১৪৪টি আসনের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি আসনও। মাত্র একবছর বাকি রয়েছে লোকসভা নির্বাচনের। সেকথা মাথায় রেখে তারা এখন থেকেই ঘর গুছিয়ে নিতে মাঠে নেমে পড়েছে। ইতোমধ্যেই লোকসভা নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক বিস্তৃতি কীভাবে ঘটানো হবে, তার রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন শাহ-নাড্ডারা।

সূত্রের খবর, এই নির্বাচনি রণকৌশল তৈরি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় নেতৃত্বকে সাফ বলেছেন, ‘বুথস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া বিজেপির সাফল্য আসবে না।’ তাই এই পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে প্রতিটি সদস্য জড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলত, দলের বুথস্তর পর্যন্ত এই পরিকল্পনার রূপায়ণ কার্যকর করা হবে। সেই হিসেবে দল গত বছর থেকেই প্রবাস যোজনা শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিজেপি যে ১৪৪টি কেন্দ্রকে প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়েছে, যেখানে দল গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এর মধ্যে যে লোকসভা আসনগুলোতে ২০১৯ সালের বিজেপি দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছিল। অথবা, সামান্য ব্যবধানে জিতেছিল সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ দলের নেতাদের দলকে সাংগঠনিকভাবে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, এমন পরিকল্পনা নিয়েই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৩৬টি কেন্দ্র করেছিল। তার মধ্যেই ৩০৩টি আসনে তারা জয়ী হয়েছে। বর্তমানে বিজেপির প্রবাস যোজনা চলছে দেশজুড়ে ১৬০ আসনে। এরপর এই সংখ্যাটা বাড়িয়ে আরও ২০০ টি আসনকে যুক্ত করা হবে।

সূত্রের খবর, গত বছর ২৫ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার মন্ত্রীদের এই প্রবাস যোজনার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, প্রবাস যোজনার তালিকাভুক্ত প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে কোনও মন্ত্রী বা প্রবীণ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তার কাজ হবে দলের সংগঠনকে মজবুত করা। কর্মীদের উৎসাহিত করা। বুথস্তরে দলের কাজের গতি বাড়িয়ে স্থানীয় ভোটারদের প্রভাবিত করা। এর পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় দলের প্রভাব বাড়ানোর জন্য বিজেপি কর্মীদের উৎসাহিত করা।

অপর দিকে, পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের আগেই পঞ্চায়েত ভোট। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি মনে করছে এই ভোটেই লোকসভা ভোটের মহড়া তারা দিতে পারবেন। পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও দলকে গুছিয়ে নিতে পারবেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী, সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষসহ-১৮০ জন নেতার একটি টিম গঠন করে গ্রামে গ্রামে পঞ্চায়েত সম্মেলন শুরু করার প্রস্তুতি শুরু করেছ। এমনটাই বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। শাহ-নাড্ডারা চব্বিশের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৪ আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিয়েছেন। পঞ্চায়েত ভোটে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার জন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে গুছিয়ে তুলতে উনিশের লোকসভায় জেতা ১৮ টি আসন ছাড়াও সামান্য ব্যবধানে হারা ও দ্বিতীয় স্থান পাওয়া এমন ১৯টি লোকসভা আসনকেও পাখির চোখ করেছে বঙ্গ বিজেপি।