বলা হচ্ছে হায়দ্রাবাদের আমিরপিতের ৪ দশক পুরনো ‘দুর্গাভাই দেশমুখ মহিলার কারিগরি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট’-এর কথা। সরকারি এই ইন্সটিটিউটের ৪৬৭ জন মেয়েকে কলেজের মাঠে, প্রাঙ্গণে অথবা পরিত্যক্ত ক্লাস রুমে প্রাকৃতিক কাজকর্ম সারতে হয়। গোপনীয়তার জন্য তাদের ব্যবহার করতে হয় পাতলা ওড়না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় এই ওড়না ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন তাদের বন্ধুরা।
সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয় ওই প্রতিষ্ঠান। সে সময় ক্যাম্পাসে দুর্গন্ধের প্রবল উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা জানান, অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর টয়লেটের কারণে তাদের কিভাবে ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে এ দুর্ভাগ্যকে মেনে নিয়েছেন তারা। এক নারী জানান, যেখানে সেখানে মুত্রত্যাগ করাতে তারা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। অধ্যক্ষের কাছে বার বার অভিযোগ করেও কোনও ফল পাওয়া যায়নি বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের কথা অস্বীকার করেননি ফ্যাকাল্টি মেম্বাররাও। তারাও জানান, বছর ধরে টয়লেট পরিষ্কার করা হয় না।
গত নভেম্বরে ইন্সটিটিউটের আর্কিটেকচার বিভাগের সাবেক প্রধান এম নাগারাজ তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও ও রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ অধিদপ্তরে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে নাগারাজ উল্লেখ করেছিলেন, ইন্সটিটিউশনের টয়লেট অপরিচ্ছন্ন। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না এবং পর্যাপ্ত সুবিধাও নেই। ইন্সটিটিউশনের মেয়ে শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহারে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওই চিঠির কোনও জবাব আসেনি।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা আবর্জনা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভয়াবহ দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাসেও মনোযোগ দিতে পারছে না।
যোগাযোগ করা হলে ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সুরেশ জঙ্গা জানান রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে টয়লেটটি ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের এখানে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। বর্তমান ভবনটি অস্থায়ী। যে টয়লেট আছে তা পরিত্যক্ত। পুরো ভবনটি ভেঙে ফেলার পূর্বে টয়লেট মেরামতও করা যাচ্ছে না।
অধ্যক্ষ জানান, বর্তমান ক্যাম্পাসের পেছনেই নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। তবে সরকারি তহবিলের অভাবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের আশা,এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এএ/বিএ/