কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে আন্তর্জাতিক নারী পাচারচক্রের খপ্পরে পড়া এক বাংলাদেশি কিশোরীকে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে দুর্গাপুর ও পানাগড়ে এই পাচারচক্রের এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মূলহোতা এক নারীসহ দুজনকে পানাগড়ে বিমানবাহিনীর এক জওয়ানের মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়। আর তাতেই প্রশ্ন উঠেছে নারী পাচারের আড়ালে কি হানিট্র্যাপের মতো নতুন কোন ফাঁদ পাতা হয়েছিল? ঘটনা তদন্তে নেমেছে কমিশনারেট পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাপ্পু রজক দুর্গাপুর ভিড়িঙ্গির বাসিন্দা। এছাড়া সাইনুর বিবি ও সেখ মুস্তাক আহমেদকে পানাগড় বিমানঘাঁটি লাগোয়া ডাঙাপাড়ায় এক জওয়ানের মালিকানাধীন ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন।
জানা গেছে, আটক বাংলাদেশি কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৬ বছর। বেকারিতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল। সোমবার দুর্গাপুরের কাদারোড যৌনপল্লীতে এক নাবালিকাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয় দুর্বার সংগঠনের প্রতিনিধিদের। সন্দেহবশত ওই নাবালিকাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুর্বারের প্রতিনিধিরা। কথায় অসঙ্গতির সঙ্গে কোনও পরিচয়পত্র না থাকায় মেয়েটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর থানায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান কোনও নারী পাচারচক্রের খপ্পরে পড়েছিল ওই কিশোরী। চাকরি দেওয়ার নাম করে তাকে নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশ থেকে। চক্রের লোকেরা তাকে কাদারোড যৌনপল্লীতে নিয়ে আসে। আর তাতেই নারী পাচারচক্রের হদিশ উঠে আসে।
দুর্বার সংগঠনের দুর্গাপুর শাখার সম্পাদিকা বলেন, কিশোরীকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বাংলাদেশ থেকে কোনও দালালের পাল্লায় পড়ে এই দেশে চলে এসেছে। পুলিশকে বলেছি এসব দালালদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে।
আটক হওয়া ওই কিশোরীকে জেরা করে পুলিশ পাপ্পু রজক, সাইনুর বিবি ও সেখ মুস্তাক আহমেদের হদিশ পায়। সাইনুর ও মুস্তাক স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন পানাগড় বিমানঘাঁটি লাগোয়া ডাঙাপাড়ায় উমেশ মিশ্র নামে এক জওয়ানের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
গ্রেফতারকৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে চারদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিন বিচারক। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের এসিপি (দুর্গাপুর) তথাগত পান্ডে বলেন, ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
উমেশ মিশ্রের স্ত্রী প্রতিমা মিশ্র বলেন, মাস দুয়েক আগে দুজনে ভাড়ায় এসেছে। কোথায় কাজ করে জানি না।
যদিও প্রতিমা তাদের আধারকার্ডের ছবি তুলে রেখেছিলেন। ওই আধারকার্ড অনুযায়ী সাইনুর ও মুস্তাকের বাড়ির ঠিকানা রয়েছে উড়িষ্যা। তবে এগুলোর সত্যতাও তদন্ত সাপেক্ষ।
ডাঙাপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাড়ায় থাকা ওই পরিবারটির আচরণ খুব রূঢ়। লাল রঙের একটি গাড়িতে আসা-যাওয়া করত তারা। নিত্য নতুন নারী ও পুরুষ আসা যাওয়া করত। সেনা জওয়ানের বাড়িতে ভাড়া থাকায় সন্দেহ হলেও সাহস করে কিছু জিজ্ঞাসা করতে ভয় হত।
বাসিন্দারা আরও বলেন, রাতে প্রচুর পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। দেশের সামরিক বিভাগের ছাউনি লাগোয়া এক জওয়ানের বাড়ি থেকে নারি পাচার চক্র চলত। এটা যেমন ভাবাচ্ছে। তেমনই আরও প্রশ্ন জাগছে, সেনাছাউনির তথ্য সংগ্রহের জন্য কি জওয়ানের বাড়িতে ঘাঁটি করেছিল? প্রশ্ন জাগছে গোয়েন্দা ও সাধারণ মানুষের সন্দেহ ঠেকাতে কি জওয়ানের বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। যা দেশের গায়েন্দা বিভাগ থেকে কাকপক্ষীও টের করতে পারেনি।
সম্প্রতি অ্যাপের আড়ালে পাতা ‘হানিট্র্যাপের’ তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। আর তাতেই বহু গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, চীন ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিভিন্নভাবে সেনা জওয়ানদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। পাচার হয়ে যাচ্ছে সেনাদের গোপন তথ্য। হানিট্র্যাপ তৈরি করছে শত্রুদেশগুলো। আর তাতে পা দিয়েই বিপাকে পড়ছেন জওয়ানরা। ইতোমধ্যে ৮৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।