ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে বাড়ি ভেঙে পশ্চিমবঙ্গে দুইজন নিহত হয়েছে। রবিবার রাতেই রিমাল স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করে। তার প্রভাব পড়ে শহর কলকাতাতেও। রাত গভীর হতেই বাড়ে বৃষ্টি। সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করে মহানগরে।
দুর্যোগের রাতে এবার কলকাতা শহরে ভেঙে পড়ল বাড়ির একাংশ। ১০ নম্বর বিবির বাগান এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যের পর থেকে শহর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে গাছপালা ভেঙে পড়ার খবর আসতে শুরু করে।ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করতেই কলকাতার বিবির বাগান এলাকার বাসিন্দা বছর আটচল্লিশের মোহাম্মদ সাজিদ তার ছেলেকে ডাকতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়েই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় একটি বিপজ্জনক বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। তখনই সেই বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে তার উপর। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই ব্যক্তি। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নীলরতন সরকার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, সোমবার সকালে প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে হাওয়ার দাপটে গাছ ভেঙে পড়ে নামখানার মৌসুমি দ্বীপের এক বৃদ্ধার বাড়িতে। এরপরই বাড়ি ধসে মৃত্যু হয় রেণুকা মণ্ডল নামে ৮০ বছর বয়সি মহিলার।
এছাড়া এই ঝড়-বৃষ্টির দাপটে আলিপুর রোডের উপরেও একটি বট গাছের অংশ ভেঙে পড়েছে। শহরে তখন ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। সেই সময়েই বটগাছের একটি অংশ রাস্তার উপর ভেঙে পড়ে। যার জেরে আলিপুর রড কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে কলকাতা পুরনিগমে কর্মীরা পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। গাছ কেটে রাস্তার উপর থেকে অন্যত্র সরানোর কাজ চালাচ্ছেন পুরনিগমের কর্মীরা।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের জেরে মেট্রো পরিষেবাতেও বিভ্রাট। মেট্রো ট্র্যাকে পানি জমার কারণে ব্যাহত পরিষেবা। পার্ক স্ট্রিট ও এসপ্লানেডের মাঝে পানি জমায় ব্যাহত মেট্রো পরিষেবা। তবে মেট্রো চলছে দক্ষিণেশ্বর থেকে গিরিশ পার্ক এবং কবি সুভাষ থেকে টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তর কুমার স্টেশন পর্যন্ত।
রেমালের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের উপকূলের এলাকা কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টি, ঝড়ে লন্ডভন্ড। বহু কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়েছে, দোকানের ছাউনি উড়ে গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার মানুষকে ত্রাণ শিবিরে তুলে আনা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাতে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে শুধু কলকাতাতেই। এর জেরে সোমবার সকাল থেকে শহরে মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত, বন্ধ শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেন চলাচলও। তবে সোমবার সকাল থেকে চালু হয়ে হয়েছে সব ট্রেন পরিষেবা। যেসব ট্রেনগুলি বাতিলের কথা বলা হয়েছিল সেগুলি আর বাতিল থাকছে না। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হলো হাওড়া এবং শিয়ালদহ শাখায় সব ট্রেন পরিষেবা অন্যান্য দিনের মতোই চালু করা হল। ট্রেন লাইনে মূলত তেমন কোন ধাক্কা এই ঝড়ের কারণে হয়নি। তাই ট্রেন পরিষেবা শুরু করে দিতে বা বাতিল ট্রেনগুলো নতুন চালু করে দিতে কোন সমস্যা হবে না।