চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যায় বিজেপির বিক্ষোভে উত্তাল কলকাতা

আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে হত্যার প্রতিবাদে বিজেপির ‘ধরনা’ কর্মসূচি ঘিরে কলকাতার শ্যামবাজারে তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রথমে তাদের অবস্থান মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয় বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে একে একে বিজেপির নেতা-নেত্রীরা হাজির হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করতেই নতুন করে বাড়ে উত্তেজনা। পুলিশ আটকাতে গেলে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিজেপি নেতা উমেশ রায়সহ একাধিক নেতা-নেত্রীকে কার্যত চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। তৈরি হয় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। 

কলকাতায় বিজেপির বিক্ষোভে পুলিশের অ্যাকশন।

এদিন ধরনা কর্মসূচিতে যোগ দিতে শ্যামবাজারে উপস্থিত হয়েছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পল, রুদ্রনীল ঘোষসহ একাধিক নেতানেত্রী। আগেই এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে রুদ্রনীল ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়ার মতো নেতাদের আটকও করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে ধরনা মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর শুক্রবার সকালে নেতা-নেত্রীরা শ্যামবাজারে পৌঁছতেই বাড়ে উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে র‌্যাফ। কাঁদানে গ্যাস নিয়ে হাজির হয়েছে পুলিশও।

বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,‘আরজি করে পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আর প্রতিবাদ করতে যেতেই পুলিশ ধরপাকড় শুরু করেছে।’

অগ্নিমিত্রা পলও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বুধবার রাতে আরজি করে হামলার ঘটনায় পুলিশের কোনও ভূমিকা দেখা যায়নি, অথচ বিজেপির ধরনায় কেন এত তৎপর পুলিশ?’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রভাবশালী আত্মীয় আরজি করের ঘটনায় যুক্ত। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ প্রশাসন কারও ওপর আমাদের ভরসা নেই।’

এদিকে শুক্রবার মাঝ রাস্তা থেকে সন্দীপ ঘোষকে তুলে নিয়ে যায় ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। আরজি করের সাবেক অধ্যক্ষকে শুক্রবার রাস্তা থেকে ধরে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। আরজি করের চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের যে মামলা,তাতে সন্দীপ ঘোষের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিবিআইয়ের কাছে। সিবিআই তাঁকে ডেকেছিল বলে এদিনই কলকাতা হাইকোর্টে জানিয়েছিলেন সন্দীপের আইনজীবী। ডাকলেও সিবিআইয়ের ডাকে সাড়া দেননি তিনি। এবার তাঁকে রাস্তা থেকেই তুলে নিয়ে যায় সিবিআই।

গত কয়েক বছরে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার আরজি করের অধ্যক্ষ পদ থেকে সরানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেও কোনও এক অদৃশ্য কারণে তাকে পদে রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে আরজি করে যা ঘটে, তারপর আর পদ বাঁচাতে পারেননি সন্দীপ। যদিও এরপর তাকে ন্যাশনাল মেডিক্যালের অধ্যক্ষ করেছিল মমতা সরকার। তবে হাইকোর্টের বাধায় সে পদে আর বসা হয়নি তার। ছুটিতে চলে যেতে হয়েছে। আর এবার সিবিআই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়।

অন্যদিকে, ১৪ আগস্টের রাতে আরজি কর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় সৌমিক দাস নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দমদমের পূর্ব সিঁথি এলাকার বাসিন্দা সৌমিককে গ্রেফতার করে নাগেরবাজার থানা থেকে কলকাতা পুলিশ লালবাজারে নিয়ে যায়। শুক্রবার কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার আধিকারিকরা নাগেরবাজার থানায় এসে পৌঁছন। সেখানে এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর নাগেরবাজার থানা থেকে লালবাজারের নিয়ে যাওয়া হয় সৌমিককে।