কোনও ব্যক্তি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে তার ক্ষেত্রে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি বা নির্যাতন প্রতিরোধ আইন প্রযোজ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের বোম্বে হাইকোর্টের কোলহাপুর বেঞ্চ। নিজের এক আত্মীয়ের দায়ের করা মামলায় এক দম্পতিকে এই আইনের আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় আদালত এই পর্যবেক্ষণ জানান।
গত রবিবার বিচারপতি বৃশালি ভি জোশীর বেঞ্চ ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি আমলে নিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করেন। ওই নারী নিজেই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তার স্বামী মুসলিম এবং ২০১১ সালে বিয়ের সময় তিনি নিজে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। তখন থেকে তিনি মুসলিম ধর্মই পালন করে আসছেন এবং ধর্মান্তরের পর নিজের নামও পরিবর্তন করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযোগকারী নারী মূলত হিন্দু মাহার সম্প্রদায়ের ছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৫ সালে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা স্বামীর বোন ও বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করা এবং শৌচাগার পরিষ্কার রাখার কথা বলায় আসামিরা ওই নারীকে মারধর করেন। একই সাথে তিনি তফশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত তা জানা সত্ত্বেও তাকে জাতিগত তুলে গালিগালাজ করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সত্যব্রত জোশী আদালতে যুক্তি দেখান যে, এটি মূলত একটি দেওয়ানি বিরোধ। তারা একই পরিবারের সদস্য এবং একটি মামলার রায় আবেদনকারীদের পক্ষে যাওয়ায় ওই নারী এই মিথ্যা এফআইআর দায়ের করেছেন। ফলে নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের অধীনে এখানে কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়নি।
পরে আদালত নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের অভিযোগ থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে অব্যাহতি দেন। তবে এফআইআরে থাকা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক কার্যক্রম চালানোর মতো প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে উল্লেখ করে আদালত বলেন, সেসব অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার মোকাবিলা করতে হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে