জুনিয়র সহকর্মীকে ধর্ষণ: দোষী সাব্যস্ত ভারতীয় সাংবাদিক তেজপাল

ধর্ষণ মামলায় তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বোম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ২০১৩ সালে তার এক জুনিয়র সহকর্মীর করা মামলায় এ রায় দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ২০২১ সালে ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া তেজপালের খালাসের রায় বাতিল করলো হাইকোর্ট। ওই খালাসের বিরুদ্ধে গোয়া সরকার আপিল করেছিল। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। 

বিচারপতি ড. নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসানদেকারের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ উভয় পক্ষের বিস্তারিত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা খালাসের রায় বাতিলের আবেদন তুলে ধরেন। অন্যদিকে তেজপালের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবাদ পন্ডা।

মামলাটি ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় থিঙ্কফেস্ট অনুষ্ঠানের সময় একটি হোটেলের লিফটের ভেতরে তার সাবেক এক জুনিয়র সহকর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

২০১৭ সালে মাপুসা ট্রায়াল কোর্টে বিচার শুরু হয়। ২০২১ সালে তেজপাল খালাস পান। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গোয়া সরকার।

আপিলের শুনানিতে তুষার মেহতা যুক্তি দেন, সেশনস কোর্ট যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে পূর্বধারণার ভিত্তিতে অভিযোগকারীর আচরণ মূল্যায়ন করে গুরুতর ভুল করেছে।

খালাসের রায়ে ট্রায়াল কোর্ট বলেছিল, অভিযোগকারী যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির কাছ থেকে ‘স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশিত আচরণ’ প্রদর্শন করেননি। এর জবাবে মেহতা বলেন, যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির প্রতিক্রিয়ার কোনও সার্বজনীন মানদণ্ড নেই। শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক পটভূমি ও পরিস্থিতিভেদে প্রত্যেকের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তুষার মেহতা তেজপালকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। আদালতে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী তার মেয়ের বয়সী হওয়া সত্ত্বেও তিনি অপরাধ করেছেন। তিনি ভুক্তভোগীর জন্য পিতৃতুল্য ছিলেন। মেয়েটি না বলেছিল, কিন্তু তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। সমাজের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে- কোনও মেয়ে ‘না’ বললে তার অর্থ ‘না’।

অন্যদিকে রায় ঘোষণার পর আদালতের কাছে নমনীয়তা চান তেজপাল। তিনি বলেন, আমার বয়স ৬২ বছর এবং আমি বিশ্বাস করি আমিই ভুক্তভোগী। আমার স্ত্রী আছেন। এর বেশি বলার নেই। আমরা আপিল করতে পারি। আমার প্রতি নমনীয় হোন। বাকি সব তথ্য নথিতে রয়েছে।