মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারাল প্লেন, ককপিটে কী ঘটেছিল?

ফ্লাইট চলাকালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীব্রভাবে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানটির নাক দ্রুত নিচের দিকে নামিয়ে গতি বাড়ান ককপিটে থাকা ফার্স্ট অফিসার। এতে বিমানটি সাময়িকভাবে শূন্য মাধ্যাকর্ষণ অবস্থায় চলে যায় এবং ককপিটের ভেতরে থাকা পাইলটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ওপরে ভেসে ওঠে।

মাঝআকাশে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এয়ারবাস এ৩২০ বিমান হঠাৎ করে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ওই সময় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে কো-পাইলট বিমানটির নাক নিচের দিকে নামিয়ে গতি বাড়ানোর জোরালো চেষ্টা করলে ককপিট ও কেবিনের ভেতর সাময়িকভাবে ‘শূন্য মাধ্যাকর্ষণ’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ককপিটের ভেতরে থাকা পাইলটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ওপরে ভেসে ওঠে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদনে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফুকেটের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এআই-২৩৭৯ বিমানটিতে এ ঘটনা ঘটে। ককপিটে যখন বিমানের এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম নিয়ে ফার্স্ট অফিসারের সঙ্গে ক্যাপ্টেন আলোচনা করছিলেন, ঠিক তখনই বিমানটি ‘স্টল’ করছে, অর্থাৎ গতি কমে নিচে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি- মর্মে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোপাইলট বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমানের সামনের অংশ ওপরের দিকে উঠে যেতে থাকে। প্রশিক্ষণ অনুযায়ী ফার্স্ট অফিসার দ্রুত বিমানের নাক নিচের দিকে নামিয়ে দেন। এতে বিমানের ভেতর ক্ষণিকের জন্য মধ্যাকর্ষণ শক্তি বিপরীতমুখী হয়ে সব কিছু ভেসে ওঠে। পরবর্তীতে উভয় পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটিকে নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করান।

পরবর্তী প্রকৌশল পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিমানটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক সিস্টেমেই একযোগে চাপ কমে গিয়েছিল, যা একটি অত্যন্ত বিরল ও গুরুতর ঘটনা। পাশাপাশি বিমানের পিচ নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

ফ্লাইটটি দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলটদের বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে ফার্স্ট অফিসার উত্তীর্ণ হলেও বিমানের মূল ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজা সেবনের প্রমাণ মেলে। বর্তমানে দুই পাইলটকেই ফ্লাইট ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) ঘটনাটিকে ‘গুরুতর দুর্ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিমান চলাচলের সুরক্ষায় কোনও আপস করা হবে না। 

সূত্র: এনডিটিভি