পাইলটের চোখ লাল ও দেখে মাতাল মনে হচ্ছিল, এরপর মাঝ আকাশে যা ঘটলো

গত সপ্তাহে ফুকেটের থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার যে প্লেনটি হঠাৎ মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, সেই প্লেনের ক্যাপ্টেন উড্ডয়নের আগেই দৃশ্যত নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন এক যাত্রী। ঘটনার পর যাত্রীদের ভিডিও না করার জন্য পাইলট বলেছিলেন, ‘বাত কা বাতঙ্গড় বান জায়েগা’, অর্থাৎ ছোট কোনও বিষয় বা সাধারণ ঘটনাকে অহেতুক টেনে অনেক বড় বা জটিল করে তোলা হবে বলেও অভিযোগ ওই যাত্রীর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যাত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

গত ৪ আগস্ট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফুকেটের থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে এআই-২৩৭৯  ফ্লাইটটি মাঝআকাশে হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু আহত হন। ঘটনার পর ডোপ টেস্টে ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়ার খবর প্রকাশের পর ওই যাত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাত্রী ও ক্রুরা আহত হওয়া সত্ত্বেও পাইলট কেন নিকটস্থ কোনও বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করালেন না।

উড্ডয়নের আগের মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে ওই যাত্রী বলেন, আমি ও আমার ভাই সবার শেষে প্লেনে উঠেছিলাম এবং পাইলটও আমাদের সাথেই উঠছিলেন। বিমানটি সঠিক সময়ে ছাড়বে কি না তা জানতে আমি তার সাথে কথা বলি। তিনি খুব ধীর গতিতে উত্তর দিচ্ছিলেন এবং তার চোখ লাল ছিল। আমি তখনই আমার ভাইকে বলেছিলাম যে পাইলটকে দেখে মাতাল মনে হচ্ছে।

ঘটনার আকস্মিকতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বিমানে সকালের নাশতা পরিবেশনের পর সবাই যখন বিশ্রামে ছিলেন, তখন হঠাৎ একটি ফাইটার জেটের মতো বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু আকাশে ভাসতে থাকে, যাত্রীদের মাথা বিমানের ছাদে আঘাত করে, রক্তপাত শুরু হয় এবং কেবিনজুড়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে।

ওই যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আহত যাত্রীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বদলে পাইলটের মূল চিন্তা ছিল কীভাবে দিল্লিতে পৌঁছে পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া যায়। ককপিট থেকে বের হয়ে তিনি যাত্রীদের ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন। ওই সময় লখনৌ কাছাকাছি থাকলেও সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো নয় অজুহাত দিয়ে পাইলট দিল্লিতে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কে ভিডিও করা নিয়ে এত চিন্তা করে? এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) না মেনে তাকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে? প্রশ্ন তোলেন ওই যাত্রী।

সূত্র: এনডিটিভি