‘ভূতের’ আতঙ্কে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, আসল কারণ জানালেন চিকিৎসকরা

ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার একটি সরকারি আবাসিক উপজাতি স্কুলে ‘ভূত’ থাকার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ৬০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছে। ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর ডোমা সরকারি ট্রাইবাল আশ্রমশালার ৬০৮ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যায়। তাদের মধ্যে ৩৪৫ জন ছাত্রী ও ২৬৩ জন ছাত্র।

চিকালদারা তালুকের মেলঘাট অঞ্চলের ওই আবাসিক স্কুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতে নূপুরের শব্দ, কান্না ও হাসির মতো অস্বাভাবিক আওয়াজ শোনার দাবি করার পর আতঙ্কের শুরু হয়। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে যায়, কাঁপতে থাকে, চিৎকার করে, কাঁদে বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে হাসতে থাকে। কেউ কেউ আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল কিংবা দিশেহারা অবস্থায় ছিল বলেও জানা গেছে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্কুলটিতে ‘ভূত’ থাকার দাবি আরও জোরালো হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা করতে আসা চিকিৎসক দল অলৌকিক বা ভৌতিক কোনও কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়নি। চিকিৎসকেরা বরং ঘটনাগুলোকে গণআতঙ্ক ও সাইকোসোম্যাটিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত কোনও গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ভয় বা মানসিক চাপ ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে অলৌকিক কোনও কারণ না থাকলেও ভুক্তভোগীরা সত্যিকার অর্থেই শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ অনুভব করতে পারে।

ঘটনার পর ‘ভূতের স্কুল’ নিয়ে ছড়ানো প্রাথমিক ধারণা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। আক্রান্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এবং তাদের পরিবারকে আশ্বস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি (এমএএনএস)। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি স্কুলটিতে ভূত থাকার কোনও প্রমাণ নেই বলে গুজব দূর করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের পর স্কুল ছেড়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এখন আবার প্রতিষ্ঠানে ফিরতে রাজি হয়েছে। 

সূত্র: উইয়ন নিউজ