বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী। সোমবার (২৪ আগস্ট) আমডাঙার বিধায়ক দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতৃত্বে রয়েছেন এমন ধারণা থেকে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে ওই শিবিরে গিয়েছিলেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পাশে নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাসেম সিদ্দিকী বলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম দিদি সেখানে আছেন। পরে দেখলাম, দিদি সেখানে নেই; কোথাও তার কোনো চিহ্নও নেই। মানুষ দিদির জন্য ভোট দিয়েছিল। আমি আমডাঙায় দিদির পোস্টার নিয়ে প্রচার করেছি। দিদি যেখানে, আমরাও সেখানে।
কাসেম সিদ্দিকী আরও বলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের শুধু একটি বৈঠকে ডেকেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাদের নেতা থাকবেন। বিভ্রান্তির মধ্যে তাদের দিয়ে একটি চিঠিতে সই করানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরে আমরা বুঝতে পারি, সেখানে দিদি ছিলেন না এবং এটি আলাদা একটি গোষ্ঠী।
কুণাল ঘোষ বলেন, বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য দিয়ে তাদের সই করানো হয়েছিল। যে কারণে সই নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
কাসেম সিদ্দিকী আমডাঙার বিধায়ক এবং মুসলিমদের কাছে শ্রদ্ধেয় স্থান ফুরফুরা শরিফের একজন পিরজাদা।
এদিকে কাসেম সিদ্দিকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে ফিরে আসার দিনই আমডাঙার সাবেক বিধায়ক রফিকুর রহমান বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সর্বশেষ নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রফিকুর রহমানের পরিবর্তে কাসেম সিদ্দিকীকে প্রার্থী করেছিলেন।
কাসেম সিদ্দিকী ফুরফুরার ‘বড় পির’ আবু বকর সিদ্দিকীর বংশধর। ২০২৪ সাল থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আমডাঙা আসনে বিজেপির অরিন্দম দেকে পরাজিত করেন তিনি।