তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল, দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বিগত বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকার যৌথভাবে রাজ্যের সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পুজো মণ্ডপ উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, বামেরা ধর্মকে ‘আফিম’ বললেও পরবর্তী সময়ে তৃণমূল বাংলাকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানানোর চেষ্টা করেছিল। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে হীনবল করার প্রচেষ্টা চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বামেদের ৩৪ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছর মিলিয়ে গত ৪৯ বছর ধরে এই অবস্থা চলেছিল।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ৪৯ বছর ধরে, ৩৪ বছর ধরে কমিউনিস্টদের আমলে যারা ধর্মকে ‘আফিম’ বলত তারা ক্ষমতায় ছিল এবং পরবর্তী ১৫ বছর ধরে তারা বা তৃণমূল এটিকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করেছে। এখন এমন একটি সরকার এসেছে যা সেই সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে ফিরিয়ে আনতে চায় যা মানুষ ভুলে যাচ্ছিল।

বাম আমলের সমালোচনা করে তিনি জানান, পুজো মণ্ডপের বাইরে কার্ল মার্ক্স ও ভ্লাদিমির লেনিনের বই রাখা হলেও স্বামী বিবেকানন্দ বা লোকনাথ বাবার কোনও রচনা সেখানে পাওয়া যেত না। তিনি বলেন, সেখানে হানুমান চালিসা বা ভগবত গীতা পাওয়া যেত না। স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল যে তারা ধর্মে বিশ্বাস করে না এবং ধর্মকে আফিম মনে করে।

বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, তাদের আমলেই বাংলাকে ‘জামায়াতি’ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে তিনি মহরমের সঙ্গে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের দিন পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, তাদের ১৫ বছরের মেয়াদের শেষ দিকে তারা বাংলাকে জামায়াতি বানানোর চেষ্টা করেছিল। এক বছর বিসর্জনের দিন পরিবর্তন করা হয়েছিল। তিনি বৈঠকে বলেছিলেন যে মহরম আছে, তাই বিজয়া দশমীতে কোনও বিসর্জন হবে না। তা করা যায় না। পঞ্জিকা অনুসরণ করতে হবে। আমাদের পরম্পরা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছিল।

শুভেন্দু আরও সমালোচনা করেন বর্তমানে জেলে থাকা এক সাবেক রাজ্য মন্ত্রীর। তিনি জানান, সনাতনী রীতি অনুযায়ী যে সময়টিকে অশুভ বা পিতৃপক্ষ বলে গণ্য করা হয়, সেই সময়েই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওই মন্ত্রীর দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার উদ্বোধন মাতৃপক্ষে হওয়া উচিত। মহাষ্টমীর সময় ‘পরম পবিত্রতা’ বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাভাষী হিন্দুদের ‘স্বদেশভূমি’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন রাজ্যটি গঠিত হয়েছিল। ভাষা ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সনাতনীদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগে এত গণেশপূজা হতো না। কেউ কেউ ভাবতেন, এটি মহারাষ্ট্রের বিষয়। না, এটি সারা বিশ্বের সব সনাতনীর জন্য। কেউ কেউ ভাবতেন, মা দুর্গা শুধু কলকাতার। না, তিনি সব সনাতনীর।

তিনি আরও বলেন, যে দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল- তুমি হিন্দিভাষী, তুমি গুজরাটি, তুমি বাঙালি, তুমি মারওয়াড়ি- ২০২৬ সালে আমরা সেই দেয়াল ভেঙে দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই হিন্দুস্তানি বা ভারতীয়)। বাংলার বাঙালি হিন্দুদের স্বদেশভূমি হিসেবে রাজ্যটিকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, তার সরকার ‘বহুজন সুখায় বহুজন হিতায়’, অর্থাৎ বহু মানুষের সুখের জন্য, বহু মানুষের কল্যাণের জন্য নীতিতে বিশ্বাস করে।