ভারতের তামিলনাড়ুর সরকারি হোস্টেলগুলোর মেনুতে গরুর মাংস যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের সামাজিক ন্যায়বিচারমন্ত্রী ভান্নি আরাসু। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার সাইদাপেটের এমসি রাজা সোশ্যাল জাস্টিস হোস্টেলের সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভান্নি আরাসু জানান, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে বিভাগটি ইতোমধ্যেই হোস্টেলের মেনুতে বিভিন্ন পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান মেনুর একটি অংশ সংশোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে আমিষ খাবার এবং প্রতি সপ্তাহে বিরিয়ানি পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ পটভূমি থেকে আসা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিবেশন করা আমিষ পদের পাশাপাশি গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারি হোস্টেলে মাটন ও মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয় এবং সোমবারে বিরিয়ানি দেওয়া হবে।
ভান্নি আরসু যোগ করেন, তবে গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা একদল শিক্ষার্থী উল্লেখ করেছেন যে মাটন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হওয়ায় তা তাদের খাওয়ার অভ্যাসে ছিল না। তাই তারা মেনুতে গরুর মাংস যোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেহেতু হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করার পরেই কেবল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে হোস্টেলের মেনুতে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, উপমা ও সেমিয়া খিচুড়ির মতো কিছু খাবার মেনু থেকে বাদ দিয়ে সকালের নাস্তায় ইডলি ও দোসার মতো খাবার যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, পুথিয়া তামিলাগাম দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. কে কৃষ্ণাসামি হোস্টেলের মেনুতে গরুর মাংস সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মন্ত্রীর বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে এমন সিদ্ধান্তের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ সুষম পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে।