তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিরোধ ৪ মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনকে চার মাস সময় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।দলটির অন্দরের কোন্দলের জেরে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৃণমূলের নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ নির্বাচনী প্রতীক স্থগিত করার অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে শীর্ষ আদালত এই নির্দেশ দেয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

আদালত উভয় পক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে তিন মাসের মধ্যে এই বিরোধের মীমাংসা করতে বলেছে। এর ফলে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকরভাবে চার মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হলো।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক স্থগিত করার নির্দেশ দেয় এবং বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ১০ দিন পর নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়- উভয় পক্ষের পক্ষ থেকেই প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। মমতা নেতৃত্বাধীন শিবির বর্তমানে ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে এবং বিদ্রোহী শিবির ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ আইনি ভিত্তিহীন এবং এটি গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাখিল করা একটি ত্রুটিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন উপস্থাপনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে আরও বলা হয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক স্থগিত করার নির্বাচন কমিশনের আদেশটি বেআইনি এবং সংবিধানে সংরক্ষিত গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে,  এটি আইনের একটি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করে, তা হলো উপনির্বাচন ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন এমন কোনও অন্তর্বর্তী আদেশ পাস করতে পারে কি না, যা স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত করে এবং আবেদনকারীর ক্ষতিসাধন করে। শীর্ষ আদালতে করা এই আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিবাদী হিসেবে যুক্ত করেছেন।

এর আগে নির্বাচন কমিশন দলটির নাম এবং সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহার থেকে উভয় পক্ষকে বিরত রাখার অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছিল। প্যানেল জানায়, ১৯৬৮ সালের নির্বাচন প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এই বিরোধের একটি আইনগত ও সুনির্দিষ্ট মীমাংসা প্রয়োজন।