মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে কেবল কৌতূহলবশত গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিনেতা ইমরান খান। গত ১০ অক্টোবর সেখানে ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে কী ঘটছে তা দেখতে গিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে- এমন দাবি জানিয়ে ‘লিভ ইন্ডিয়া’ বা ভারত ছাড়ার নোটিশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন ২০০৮ সালের ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ ছবির এই অভিনেতা। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে তাকে ওই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
তার পিটিশনে বলা হয়েছে, পুলিশ ওই এলাকাটি অবরুদ্ধ জানালে তার কৌতূহল মিটে যায় এবং তিনি নির্দেশ মেনে নিজের পার্ক করা গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাকে ঘিরে ফেললে এবং সেখানে হট্টগোল তৈরি হলে মার্কিন নাগরিক ইমরান খানকে আটক করা হয়।
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমরান খান যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন সেখানে মূলত কোনও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল না। জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হলেও তিনি মাত্র ২ বছর বয়স থেকেই ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তার একটি ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে।
পিটিশনের আরেকটি যুক্তিতে বলা হয়েছে, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার আগে তাকে কোনও কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শো-কজ দেওয়া হয়নি। তবে রিটটি দায়ের করার পর মুম্বাইয়ের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরডিও) তাকে একটি নোটিশ ইস্যু করে। পরবর্তীতে তার আইনজীবী এনডিটিভি-কে জানান, ‘আমরা নোটিশের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছি... বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতে উঠলে আমরা এই পয়েন্টটি উপস্থাপন করবো’।
ইমরান খান তার পিটিশনে দাবি করেছেন, ‘লিভ ইন্ডিয়া’ নোটিশটি ছিল ‘স্বেচ্ছাচারিতাপূর্ণ’, এতে কোনও কারণ দেখানো হয়নি এবং কোনও ধরনের শুনানি ছাড়াই এটি জারি করা হয়েছে।
ইমরান খানের মূল যুক্তি হলো- একজন ওসিআই কার্ডধারী ‘সাধারণ কোনও বিদেশি নন’ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিসংগত সুযোগ না দিয়ে তার এই মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যায় না।
পিটিশনে স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ১০ ও ১২ অক্টোবর ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক ‘রাজনৈতিক পদাধিকারী’ ইমরান খানের দেশত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন, যদিও তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া প্রকাশ্যে তাকে ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।
ইমরান খান ‘লিভ ইন্ডিয়া’ নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ যাতে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত বা কালোতালিকাভুক্ত না করে কিংবা তার ওসিআই নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেয়, সে বিষয়ে আদালতের আদেশ প্রার্থনা করেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি