সাজা শেষেও বাংলাদেশে বন্দি ১৬৮ ভারতীয়, কেন দায়িত্ব নিচ্ছে না ভারত?

মাদক ও মানবপাচার থেকে শুরু করে সোনা চোরাচালান এবং অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন ১৫ দেশের অন্তত ৪০৭ জন নাগরিক। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ভারতের নাগরিক। এর মধ্যে ১৬৮ জন সাজা ভোগ শেষ করেও দেশে ফিরতে পারছেন না। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক। তাদের সংখ্যা ২৩৮। এর মধ্যে ১৬৮ জনের সাজা শেষ হয়েছে। তবে দেশে ফেরার ব্যবস্থা সম্পন্ন না হওয়ায় তাদের কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

তবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কনস্যুলার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাজা শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় বন্দিদের মধ্যে মাত্র ২৫ জনের জাতীয়তা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, মূল সমস্যা হলো- বন্দিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তারা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই করা।

ভারতীয় হাইকমিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাজা শেষ হওয়া ১২১ জন ভারতীয় বন্দির একটি তালিকা হাইকমিশনে পাঠিয়েছিল। তবে তালিকায় থাকা অধিকাংশ বন্দির ব্যক্তিগত তথ্য তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট নয়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এসব বন্দির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে হাইকমিশন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে হাইকমিশন। কয়েকটি ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গত জুনে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই কারাগারের ছয় মাস আগের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, বাংলাদেশে সাজা শেষ করে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ১৫২ জন বিদেশির মধ্যে ১৪৮ জনই ভারতীয়। তখন এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে তাদের বন্দিদশা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশের কারাগারে বিদেশি বন্দিদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের সংখ্যা ১৩৩। তবে তাদের মধ্যে মাত্র একজনের সাজা শেষ হয়েছে এবং তিনি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাগারে বন্দি অন্য বিদেশিদের মধ্যে নাইজেরিয়ার ছয়জন এবং পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার তিনজন করে নাগরিক রয়েছেন।

নিরাপত্তার কারণে বিদেশি বন্দিদের পৃথক সেলে রাখা হয়। তাদের ওয়ার্ডের বাইরের অংশে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হয়। কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাজা শেষ হওয়ার পরও বিদেশি বন্দিদের কারাগারে আটকে থাকায় ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও হচ্ছে।