সাবেক রুমমেটের সঙ্গে মজা করতে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ফোন করার অভিযোগে উত্তর প্রদেশের কানপুর থেকে ২৩ বছর বয়সী এক ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ফোনকারী নিজেকে পাকিস্তানের লাহোরভিত্তিক একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লিতে বোমা হামলা চালাতে কয়েকজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, হুমকিটি ছিল ভুয়া।
পুলিশ জানায়, ২৭ অক্টোবর রাতে মুখার্জি নগর থানায় একটি পিসিআর কল আসে। অভিযোগকারী সুমন কুমার বিহারের মাধেপুরা জেলার বাসিন্দা। দিল্লির ইন্দ্র বিকাশ কলোনিতে থেকে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি পুলিশকে জানান, তার রুমমেট রোহিত কুমারের ফোনে একটি অজানা ল্যান্ডলাইন নম্বর থেকে কল আসে।
ফোনকারী ধর্মীয় মন্তব্য দিয়ে কথা শুরু করেন। এরপর বলেন, লাহোরভিত্তিক একটি সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর নজর রাখছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের দিল্লিতে বোমা হামলা চালানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এ কথায় দুই শিক্ষার্থী ভয় পেয়ে যান।
কথোপকথনের সময় অভিযোগকারী ফোনকারীকে ভয় দেখাতে বলেন, তার বাবা উত্তর প্রদেশ সরকারের একজন মন্ত্রিসভার সদস্য। জবাবে ফোনকারী কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য করে ফোন কেটে দেন।
হুমকির গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান। দিল্লিতে বোমা হামলা ও পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনের উল্লেখ থাকায় পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করে। মুখার্জি নগর থানায় এফআইআর নেওয়া হয় এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
পুলিশ হুমকিতে ব্যবহৃত ফোন নম্বর, টেলিকম রেকর্ড ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কলটি মোবাইল ফোন থেকে নয়, ল্যান্ডলাইন সংযোগ থেকে করা হয়েছিল।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ও কল-সংক্রান্ত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা ল্যান্ডলাইন নম্বরের অবস্থান উত্তর প্রদেশের কানপুরে শনাক্ত করেন। এরপর দিল্লি পুলিশের একটি দল কানপুরে গিয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় চিহ্নিত স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়।
অভিযুক্তের নাম সূরজ বর্মা। তিনি উত্তর প্রদেশের আউরাইয়া জেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, বর্মাও ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং আগে দিল্লির মুখার্জি নগর এলাকার ইন্দ্র বিকাশ কলোনিতে থাকতেন। ওই সময় অভিযোগকারী সুমন কুমার ও তার রুমমেট রোহিত কুমারের সঙ্গে একসঙ্গে থাকতেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে বর্মা কথিত ভাষ্যে স্বীকার করেন, সাবেক রুমমেটদের সঙ্গে মজা করতেই তিনি ফোনটি করেছিলেন।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি কানপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ির ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার করেন। পুলিশ জানায়, কথা বলার সময় তিনি কণ্ঠও বদলেছিলেন, যাতে মনে হয় বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কেউ ফোন করছে।
হুমকিটি বিশ্বাসযোগ্য করতে এবং সীমান্তের ওপারের সন্ত্রাসী সংগঠনের কাছ থেকে এসেছে, এমন ধারণা তৈরি করতে তিনি ইচ্ছা করেই লাহোর, পাকিস্তান ও দিল্লিতে বোমা হামলার কথা উল্লেখ করেন। তবে পুলিশি তদন্তে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে, কথিত সন্ত্রাসী হুমকিটি ছিল ভুয়া ফোন।
দিল্লি পুলিশের ভাষ্য, প্রযুক্তিগত নজরদারি, টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষণ ও উত্তর প্রদেশ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। উত্তর-পশ্চিম জেলার ডিসিপি আকাঙ্ক্ষা যাদব বলেন, পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও প্রযুক্তিগত তদন্তের কারণে স্পর্শকাতর এ মামলার দ্রুত সমাধান হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি