আইএএস কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন সন্দীপ জাঙ্গালা। কিন্তু ভালো র্যাংক পাননি তিনি। প্রথম প্রযুক্তি স্টার্টআপ ছাড়ার পর স্ত্রী সোনিয়া লাম্বার সঙ্গে নতুন পথ খুঁজে পান। ২০২২ সালে এ দম্পতি শুরু করেন ‘ইয়াম্মি বি’ নামের একটি খাদ্য ব্যবসা, যেখানে চিনি, ময়দা, গ্লুটেন ও প্রিজারভেটিভ ছাড়া ডেজার্ট তৈরি হয়।
মেয়ের জন্য স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খুঁজতে গিয়েই ব্যবসার ভাবনা আসে। জন্মদিনের কেক কেনার সময়ও সন্দীপ ও সোনিয়া অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান এড়াতে ঘরে তৈরি কেক বেছে নিতেন। এতে নিজের রান্নাঘরেই স্বাস্থ্যকর খাবার বানানোর চেষ্টা শুরু করেন সন্দীপ।
স্টার্টআপ পিডিয়াকে সন্দীপ জাঙ্গালা বলেন, আমাদের বাচ্চাদের জন্য আমরা সবসময় স্বাস্থ্যকর কিছু চেয়েছি। কেক দিতে হলেও প্রিজারভেটিভ এড়াতে আমরা ঘরে বানানো কেকই বেছে নিতাম। আমরা এমন খাবার পরিবেশন করতে চেয়েছি, যা নিজেদের পরিবার ও সন্তানদেরও খাওয়াতে পারি।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে চালাতে দম্পতি এটিকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সুযোগ দেখেন। তারা এমন ডেজার্ট দিতে চেয়েছিলেন, যা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু স্বাদেও ভালো। সন্দীপ জাঙ্গালা বলেন, আমরা রেসিপিতে পরিশোধিত চিনি, ময়দা ও প্রিজারভেটিভ এড়াই। এর বদলে মিলেটভিত্তিক উপাদান ও বিকল্প মিষ্টি ব্যবহার করি।
ক্যাফে খুলতে বড় অঙ্কের টাকা খরচ না করে সন্দীপ ও সোনিয়া প্রথমে ক্লাউড কিচেন হিসেবে ইয়াম্মি বি শুরু করেন, মানুষের সাড়া দেখতে। সাড়া প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মেলে। এতে ব্যবসা এগিয়ে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস পান তারা। এরপর হায়দরাবাদে প্রথম ফিজিক্যাল স্টোর খোলেন।
ক্যাফেটি সেলিব্রিটিদেরও আকর্ষণ করতে শুরু করে। এতে প্রয়োজনীয় মনোযোগ মেলে এবং ব্যবসা বড় করতে সন্দীপ ও সোনিয়া উৎসাহ পান। হায়দরাবাদের সাড়া দেখে তারা বেঙ্গালুরুতে আরেকটি আউটলেট খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
দুই জায়গায় খাবার তৈরি সামলাতে প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয় রান্নাঘর ব্যবস্থা ব্যবহার করে। অর্থাৎ দুই শহরের প্রতিটি দোকানে আলাদা করে না বানিয়ে একটি প্রধান রান্নাঘরেই খাবার তৈরি হয়।
ব্যবসা বড় করার আগে রান্নাঘরের সুবিধা তৈরি ও নতুন পণ্য উন্নয়নে সন্দীপ জাঙ্গালা ও সোনিয়া লাম্বা প্রথমে প্রায় ১ কোটি রুপি খরচ করেন। সন্দীপের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইয়াম্মি বি প্রায় ২৩ কোটি রুপি রাজস্ব আয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মূল্যমান প্রায় ১৩০ কোটি রুপি।
সূত্র: এনডিটিভি