ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর গুলিতে নিহত হয়েছেন দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা পরমজিৎ ধনখড়। শুক্রবার রাতে নিজের আবাসিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রতিবেশী মোহন ওরফে মনু শর্মাকে শনিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে পরমজিৎকে লক্ষ্য করে প্রায় ১৫টি গুলি ছোড়েন অভিযুক্ত। এর মধ্যে নয়টি গুলি তার শরীরে লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত পরমজিৎ ধনখড় ভারতের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক মাহিন্দ্রার এশিয়া অঞ্চলের কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। কাজের সুবাদে তিনি সিঙ্গাপুরে থাকতেন। ভাতিজার বিয়েতে যোগ দিতে দুই দিন আগে ফরিদাবাদের বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি।
সুরজকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ৬৪১ নম্বর বাড়ির প্রথম তলায় স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন পরমজিৎ। তার আদি বাড়ি হিসার জেলায়। আগামী ২৪ নভেম্বর তার ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ জানায়, ভবনটির পার্কিং এলাকায় পরমজিতের নির্ধারিত জায়গায় তৃতীয় তলায় বসবাসকারী মোহন ওরফে মনু শর্মার গাড়ি রাখা ছিল। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জিম থেকে ফিরে সেখানে গাড়িটি দেখতে পেয়ে সরিয়ে নিতে বলেন পরমজিৎ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে পার্কিং এলাকায় এসে গুলি চালান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই সড়কে বসবাসকারী নরেন্দ্র নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রথমে গুলির শব্দ শুনলেও তেমন গুরুত্ব দেননি তারা। দিওয়ালির সময় হওয়ায় শব্দটিকে আতশবাজির আওয়াজ বলে মনে করেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আবার শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখন জানতে পারেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, দুই পরিবারের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তের ছেলে নিয়মিত তার পোষা কুকুরকে হাঁটাতে নিয়ে এসে ভবনের পার্কিং এলাকায় মলমূত্র ত্যাগ করাতেন। বিষয়টি নিয়ে পরমজিতের ছেলে সূর্য একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে গুলির ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগেও দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ দিন আগে অভিযুক্ত পরমজিতের ছেলেকে গালিগালাজও করেছিলেন বলে বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
পুলিশ, অপরাধ দমন শাখার সদস্য এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। সেখান থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পরমজিতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকে চলে আসা বিরোধ এবং গুলি চালানোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপরাধ দমন শাখার সেক্টর-৩০ দলের সদস্যরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ কুমার।