ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট উত্তোরণে অভিজাত শ্রেণির ভূমিকা

ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকটে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির স্বঘোষিত অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। একই সঙ্গে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পরষ্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই সংকট ও তা উত্তোরণে দেশটির অভিজাত শ্রেণির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সংকট সমাধানে এই শ্রেণির ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

merlin_149810124_69adc988-db11-4e7e-877c-a17a0db89ac0-superJumbo

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনও নেতাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন। তাকে সব সময় দলের কর্মকর্তাদের নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক ক্রীড়নক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মাধ্যমে শাসন করতে হয়। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে গড়ে তোলে অভিজাত বেসামরিক শ্রেণি।

কখনও কখনও জনগণের তাদের নেতাদের রাজনৈতিক গতিমুখ পরিবর্তন বা বদলাতে বাধ্য করতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিজাত ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার অর্থনীতি ধ্বংসের আশঙ্কায় দেশটির ক্ষমতাসীনদের গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য রাজি করায়। কিন্তু ভেনেজুয়েলার শাসক শ্রেণি মাদুরো বা গুইদোকে সমর্থনের বিষয়ে একমত হতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক অচলাবস্থার অর্থ হলো, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ক্রীড়নকরা দেশটির অভিজাতদের কাছে বিশ্বনেতাদের সমর্থন আদায়ে গ্রহণযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি। ফলে তাদের কাছে যে কোনও পদক্ষেপ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।

চ্যাভেজের শাসনামলে বাম ও ডান রাজনীতির মেরুকরণের ফলে ভেনেজুয়েলার শাসক শ্রেণির মধ্যে বিভক্তি গড়ে ওঠেছে। এমনকি খুব কমই চলমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও দীর্ঘ দিনের অবিশ্বাস তাদেরকে সহযোগী ভূমিকায় নিয়ে আসতে দিচ্ছে না। এই কারণে মাদুরোর বামপন্থী সরকারের অনেকেই ডানপন্থী পরিবর্তনে ভীত হয়ে থাকতে পারে।

ভেনেজুয়েলার মতো দেশে সংকট উত্তোরণে অভিজাত ও শ্রেণির সরকারই প্রধান হলেও তারা জানে যে, ফলাফল যা আসবে তা দেশের জনগণকে  ‘খাওয়াতে’ হবে। কিন্তু একমাত্র তখনই কাজে আসে যখন সব ক্রীড়নকরা একমত হয় এবং তাদের পদক্ষেপের বৈধতা আসে।

২০১১ সালে মিসরের বিপ্লবে বিক্ষোভের কারণেই প্রেসিডেন্ট উৎখাত হননি। সামরিক শক্তি, বিদেশি মিত্র ও নির্দিষ্ট বেসামরিক ক্রীড়নক সবাই একে অপরকে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, তারা সেনাবাহিনীর অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতা গ্রহণ মেনে নেবে। এরপরই তারা বিক্ষোভকে তাদের সিদ্ধান্তের বৈধতা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করেছিল।

কিন্তু যখন ভেনেজুয়েলার মতো অভিজাত ও সরকার অচলাবস্থায় থাকে তখন তারা তাদেরকে সমর্থনের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানায়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট নয়। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে শাসকশ্রেণির অন্যদের জানানো হয় যে, যারাই জনগণের সমর্থন পাবে তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতা দিতে পারবে।

ক্ষমতা হস্তান্তর, অভ্যুত্থান বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নৌনিহাল সিং জানান, সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের নেতারা যদি মনে করেন সরকারের জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাহলে বিক্ষোভের আশঙ্কায় ক্ষমতা দখলের পদক্ষেপ নেবেন তারা।

গুইদো ও মাদুরোর বৈধতার দাবি একধরনের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন। এর মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনে বৈধতায় বিষয়ে একটি অস্বস্থিকর সত্যতা হাজির করে।

অধ্যাপক  সিং বলেন, জনগণ বিপ্লবকে বৈধ এবং অভ্যুত্থানকে অবৈধ বিবেচনা করে। তারা মনে করে এটার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। কিন্তু নির্মম সত্য হলো বিপ্লব বা অভ্যুত্থান প্রায়ই পাশাপাশি চলে।