কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে অন্তত ১১১ জন হয়েছেন এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূকম্পনে পশ্চিম কলম্বিয়ার ক্যালির, পেরেইরা, কিবদো এবং মানিজালেসসহ একাধিক শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূকম্পনটি প্রতিবেশী ইকুয়েডর এবং পানামাতেও অনুভূত হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, রাজধানী বগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান জোসে দেল পালমারে ছিল ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল। এর গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়।
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্যালির ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক হোর্হে মনকাও বলেন, আমার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। আমি এত শক্তিশালী ভূমিকম্প কখনও দেখিনি।
ভূমিকম্পের মাত্র কয়েক দিন আগে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন আবেলফোর্ডো দে লা এস্প্রিয়েল্লা। ঘটনা পরপরই তিনি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এক জাতীয় ভাষণে তিনি বলেন, জাতীয় সরকার জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ত্রাণ পৌঁছাতে সব সক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা।
প্রেসিডেন্ট জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়েছেন।
কফি উৎপাদনকারী এলাকা রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর রাজধানী পেরেইরায় বিমানবন্দরসহ বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ভ্যালে দেল কাউকা অঞ্চলে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে।
চোকো অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় তথ্য পেতে দেরি হচ্ছে। গভর্নরের মতে, সেখানে ১২ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। অনলাইন ডেটাবেসে ইতোমধ্যে ১,৪০০ জনের বেশি নিখোঁজের তালিকা নথিভুক্ত হয়েছে।
ঘটনার পর সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদোসহ বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র ১৫.৫ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া এল সালভাদোর, মেক্সিকো, চিলি, ইসরায়েল, একুয়েডর এবং ফ্রান্স সহ বিভিন্ন দেশ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।