প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াইরত সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আকাশপথে অস্ত্র সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রদেশ আলেপ্পোর মারিয়া শহরে এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।
এসওএইচআর এর কর্মকর্তা রামি আবদেল রহমান বলেন, মারিয়াতে বিদ্রোহীদের জোট বিমান থেকে গোলাবারুদ, হালকা অস্ত্র ও ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্র আকাশ থেকে ফেলা হয়েছে।
আবদেল রহমান জানান, কুর্দিদের পর এই প্রথম সিরিয়ার বিদ্রোহীদের আকাশ পথে অস্ত্র সরবরাহ করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে আকাশ পথে সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিন্তু হালকা অস্ত্র বা ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি মারিয়াতে আইএসের সঙ্গে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে মারিয়া ও শেখ ইসা থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষ পালিয়েছেন। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের দুটি প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি মারিয়া ও আজাজ।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) নাম সিরিয়ার বিদ্রোহী গ্রুপকে এ অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এ গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছে কুর্দিশ পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি)। সম্প্রতি এ গ্রুপটি আলেপ্পোর সীমান্ত শহর মানবিজ-এ আইএসকে প্রতিরোধ করা শুরু করেছে। এ শহরটিকে আইএসের সরবরাহ রুট হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রধানত সিরিয়ার কুর্দি অঞ্চলের উত্তর-পূর্ব এলাকায় এসডিএফ গঠিত হয়। প্রধানত ওয়াইপিজি ও ফ্রি সিরিয়ান আর্মির অন্তত ১৫ টি উপ-শাখার যোদ্ধাদের নিয়ে এসডিএফ গঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র আইএসবিরোধী লড়াইয়ে এই গ্রুপটিকে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে মনে করে।
এদিকে, সিরিয়ায় পদাতিক সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে রাশিয়া। দেশটির সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই ফায়োদোরোভ আল-জাজিরাকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে রাশিয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, স্পেশাল ফোর্স ও সেচ্ছাসেবি সেনা যারা সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও মিত্রদের সঙ্গে আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগ্রহী তাদের পাঠানো হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা।
/এএ/