একজন ব্রিটিশ-পাকিস্তানি নারী সাংবাদিকের গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা উল্টো ওই সাংবাদিকের গুমের ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন লিখেছে, গুমের শিকার সাংবাদিকের নাম গুল বুখারি (৫২)। তিনি বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার লাহোরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে কয়েক আটকে রাখে। পরের দিন ওই নারী সাংবাদিককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডন লিখেছে, সাংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ার মাত্র একদিন পরে গুল বুখারির অপহরণের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যারা পাকিস্তানের নামে খারাপ প্রচারণা চালায় তাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। গুল বুখারির অপহরণের পরপরই এ নিয়ে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই ওই অপহরণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে ‘সুষ্ঠু উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছিল এবং অধিকারকর্মীরা সেনাবাহিনীকে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ডন লিখেছে, গুম-অপহরণের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা সবসময়ই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এবারের ঘটনা ব্যতিক্রম। গুল বুখারি অপহৃত হওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রকাশ্যে এসে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে বাধ্য হয়েছে তারা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে মেজর জেনারেল আসিফ ঘাফুর শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী গুল বুখারির অপহরণের সঙ্গে জড়িত নয়। সেনাবাহিনী নিজেই ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চায়।’
পাকিস্তানের ‘সমালোচনাকারীদের’ ওপর নজর রাখার কথা বলার সময় গত সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল ঘাফুর কয়েকজনের টুইটার হ্যান্ডেল ও সেগুলোর ব্যবহারকারীদের নাম দেখিয়েছিলেন। সেখানে একজন বিখ্যাত পাকিস্তানি সাংবাদিকের নাম চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন উপস্থিতরা। অপহরণের ঘটনার পর শুক্রবার জেনারেল ঘাফুর বলেছেন, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে কোনও সতর্কতাবাণী দেননি সোমবারের সম্মেলনে।