জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে সৌদি আরবের আত্মপক্ষ সমর্থন

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের শুনানিতে সৌদি আরব বলেছে, জামাল খাশোগির হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ও তাদের সাজা নিশ্চিতের আদেশ দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ। ‘অভিযুক্তদের’ বিচারের প্রক্রিয়া চলমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন , সৌদি আরব মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে শুধু ‘জননিরাপত্তা’ ও ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ বিষয়টি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্যান্য দেশ জামাল খাশোগির প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে সৌদি আরবের প্রতিনিধি সরবরাহ করা লিখিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।বন্দর আল আইবান

শুনানিতে অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ইতালিসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানান, জামাল খাশোগির বিষয়ে তার দেশটির অবস্থান পরিষ্কার করতে। তাদের দাবি, খাশোগির হত্যার ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্য ও গভীর তদন্ত করা হোক। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি স্যালি ম্যান্সফিল্ড বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

ফ্রান্সের প্রতিনিধি ফ্র্যাঙ্কয়েস রিভাসিউ গণহারে গ্রেফতার ও কারাবন্দি করে রাখার মতো কাজ বন্ধের আহ্বান জানান সৌদি আরবের প্রতি। তিনি ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিতের বিষয়েও সৌদি আরবের প্রতি দাবি জানান। অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম ও ডেনমার্ক নারীসহ অন্যান্য অধিকার কর্মীদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য অনুষ্ঠিত শুনানিতে সোমবার (৫ নভেম্বর) জাতিসংঘে সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘হিউম্যান রাইটস কমিশন অব সৌদি আরবের’ প্রেসিডেন্ট বন্দর আল আইবান।  অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্য পাওয়ার পর তিনি জানান, ‘বাদশাহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার, সব তথ্য খুঁজে বের করার এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার আদেশ দিয়েছেন সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে।’

মানবাধিকার প্রশ্নে তার মন্তব্য,  ‘ইসলামি শরিয়ার শ্রদ্ধারযোগ্য নীতি ও বিধান মেনে’ মানবাধিকারের সুরক্ষা ও প্রচারে সৌদি আরব অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি,  মানবাধিকারকে ক্ষুণ্ন করে বা এর বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে উঠতে পারে এমন সব প্রচেষ্টাকে দমন ও এসবের সঙ্গে ইসলামি শরিয়ার পার্থক্য স্পষ্ট করতে সৌদি আরব কোনও ‘ত্রুটি রাখে না।’

তার ভাষ্য, সৌদি আরবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চয়তা রয়েছে তবে তা হতে হবে অন্যদের অধিকার নিশ্চিতে থাকা আইনের দায়রার মধ্যে থেকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে। নারী অধিকারের বিষয়ে তার মূল্যায়ন, সৌদি আরবে নারীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তারা মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলে প্রার্থীও হতে পারে। গত জুন মাস থেকে তাদেরকে ড্রাইভিং লাইসেন্সও দেওয়া হচ্ছে।

শুনানিতে মিসরের প্রতিনিধি আলা ইউসুফ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করেন।