যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত কমিটির প্রধান গত রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) ইয়েমেনের হোদাইদাতে পৌঁছেছেন। সংবাদ মাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেদারল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল প্যাট্রিক কামার্ট। তার নেতৃত্ব কাজ করবেন ইয়েমেন সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিরা।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে শুরু হয়েছিল গৃহযুদ্ধ। হুথি ও সালেহ জোট রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে নির্বাসনে যান। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে হামলা চালানো শুরু করে। সৌদি আরবের দাবি, হুদাইদা বন্দর দিয়ে প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করে, যা দিয়ে তারা ইরান থেকে অস্ত্র কেনে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ভেঙে পড়ে হুদাইদা বন্দরের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। ইয়েমেনে দেখা দেয় চরম মানবিক দুর্যোগ। হুদাই বন্দরই ইয়েমেনে ত্রাণ সরবরাহের মূল মাধ্যম। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে পড়ে।
এ মাসেই সুইডেনে ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষগুলো হুদাইদাতে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়। গত মঙ্গলবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মেদ আব্দেলসালাম বলেছেন, জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত ‘আগ্রাসন ও অবরোধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
জেনারেল কামার্ট প্রথমে আদেনে ইয়েমেন সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার পর তিনি গিয়েছিলেন হুথি নিয়ন্ত্রিত সানাতে। সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হুথি প্রতিনিধিদের প্রধান আলি আল মুসকি। রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) কামার্ট পৌঁছেছেন হুদাইদাতে। সোমবার হুদাইদা বন্দর এলাকা পরিদর্শনের পর আগামী বুধবার তিনি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
জাতিসংঘের সূত্রে জানা গেছে, জেনারেল কামার্ট ‘মানবিক ত্রাণ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন’ ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীগুলোর কাছে। তিনি একই বার্তা দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিও। যদিও যুদ্ধ বিরতির অবস্থা খুব একটা স্থিতিশীল নয়। সংঘাতের জন্য এক পক্ষ অপর পক্ষকে দোষারোপ করে আসছে।