পারস্য উপসাগরে তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিষয়ে ইউরোপীয় নৌবহর গঠনের প্রস্তাবকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ও ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির সরকারের মুখপাত্র আলি রাবেইল এই মন্তব্য করেছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এ খবর জানিয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার সমন্বিত নৌ-প্রহরার প্রস্তাব করে যুক্তরাজ্য। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী থেকে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে ইরানের নিরাপত্তারক্ষীরা। ফলে এ অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্য চাইছে নিজেদের মতো করে একটি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে। শর্ত সাপেক্ষে এ প্রহরায় যোগ দিতে পারে জার্মানিও।
এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিরাপত্তায় তেমন কাজে আসবে না।
ইরান সরকারের মুখপাত্র আলি রাবেই দেশটির বার্তাসংস্থা আইএসএনএকে বলেন, ‘পারস্য উপসাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ পদক্ষেপ শত্রুতামূলক বার্তা দেয়। এটি উস্কানিমূলক এবং এ অঞ্চলের অস্থিরতা আরো বাড়াবে।
আলি রাবেই আরও বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে যে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর নিরপত্তা রক্ষার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোরই। আমরাই পারস্য উপসগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি।’
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনেকদিন ধরে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ মাসের গোড়ার দিকে ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর কমান্ডোরা স্টেনা ইম্পেরো নামে একটি ব্রিটিশ পাতাকাবাহী তেল ট্যাংকার আটক করে।
বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট তেহরানের আচরণকে রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতার মতো কাজকর্ম বলে মন্তব্য করেছেন।