ইরাকের প্রাচীনতম খ্রিস্টান আশ্রয়কেন্দ্র গুড়িয়ে দিয়েছে আইএস

ইরাকের প্রাচীনতম খ্রিস্টান আশ্রয়কেন্দ্র সেন্ট এলিজাহ। ১৯৭০ সালে সেন্ট এলিজাহ আশ্রয়কেন্দ্রটি ইরাকি রিপাবলিকান গার্ডদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরাক দখল অভিযানে টি-৭২ ট্যাংকের গোলায় আশ্রয়কেন্দ্রটির দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইরাক দখলের পর মার্কিন বাহিনীও আশ্রয়কেন্দ্রটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। আশ্রয়কেন্দ্রটি ১ হাজার ৪০০ বছর পুরনো এবং ধারণা করা হয় ৬ষ্ঠ খ্রিস্টাব্দে এটি গড়ে তোলা হয়।


 

ইরাকে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরনো একটি আশ্রয়কেন্দ্র গুড়িয়ে দিয়েছে সুন্নিপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। দেশটির উত্তরাঞ্চলের শহর মসুলের নিকটে একটি পাহাড়ে সেন্ট এলিজাহ নামে এই আশ্রয়কেন্দ্রটি ১ হাজার ৪০০ বছর পুরনো। ধারণা করা হয়, ৬ষ্ঠ খ্রিস্টাব্দে এ আশ্রয়কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা এপি’র বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, স্যাটেলাইট ছবিতে পাওয়া চিত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে আশ্রয়কেন্দ্রটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের দাবি, ২০১৪ সালে মসুল শহর দখল করার পরই আশ্রয়কেন্দ্রটি গুড়িয়ে দেয় আইএস।

২০১১ সালে স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিতে সেন্ট এলিজাহ আশ্রয়কেন্দ্র

স্টিফেন উড নামে এক পর্যবেক্ষক বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, বুধবার প্রকাশিত স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিতে দেখে ধারণা করা যায় ২০১৪ সালে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আশ্রয়কেন্দ্রটি ধ্বংস করা হয়। তখন আইএসের মসুল দখলের প্রায় তিনমাস পেরিয়ে গেছে। সেসময় দখলের পরও যেসব খ্রিস্টান মসুলে অবস্থান করছিলেন তাদেরকে শহর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল।

উড বলেন, ‘বুলডোজার, ভারি সরঞ্জাম, স্লেজ হ্যামার এবং সম্ভবত বিস্ফোরক ব্যবহার করে আশ্রয়কেন্দ্রটি ধ্বংস করে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইএস এটাকে একেবারেই ধ্বংস করে দিয়েছে।’

নিনেভাহ প্রদেশের একটি নিরাপত্তা সূত্র বুধবার বিবিসিকেও আশ্রয়কেন্দ্রটি গুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আশ্রয়কেন্দ্রটি ধ্বংসের পর পাওয়া স্যাটেলাইট ছবি

মসুলের এক ক্যাথলিক যাজক সতর্ক করেছিলেন, ইরাকে খ্রিস্টানদের ইতিহাস ‘নৃশংসভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।’ ফাদার পল থাবিত হাবিব এখন কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ইরবিলে বাস করছেন। তিবি বলেন, ‘ইরাক থেকে আমাদের হটিয়ে দেওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে খ্রিস্টানদের ঐতিহ্য ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, আইএস ইরাক ও সিরিয়ার খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা লক্ষ্য করে দখল অভিযান চালাচ্ছে। দখলের পর খ্রিস্টানদের সম্পত্তি দখল করছে এবং তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করছে। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে কর আদায় করছে কিংবা বাধ্য করছে এলাকা ত্যাগ করতে।

ইতোমধ্যে আইএস বেশ কয়েকটি খ্রিস্টান আশ্রয় কেন্দ্র ও গির্জা ধ্বংস করেছে। ধ্বংস করা খ্রিস্টান স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলাম-পূর্ব সময়ে প্রতিষ্ঠিত ইরাকের বিখ্যাত নিমরুদ, হাত্রা ও নিনেভাহ এবং সিরিয়ার পালমিরা।

ইরাকের প্রাচীনতম খ্রিস্টান আশ্রয়কেন্দ্র সেন্ট এলিজাহ। ধারণা করা হয় ৬ষ্ঠ শতকে এটি তৈরি করা হয়েছে

১৯৭০ সালে সেন্ট এলিজাহ আশ্রয়কেন্দ্রটি ইরাকি রিপাবলিকান গার্ডদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরাক দখল অভিযানে টি-৭২ ট্যাংকের গোলায় আশ্রয়কেন্দ্রটির দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইরাক দখলের পর মার্কিন বাহিনীও আশ্রয়কেন্দ্রটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।

/এএ/