ইরাকের প্রাচীনতম খ্রিস্টান আশ্রয়কেন্দ্র সেন্ট এলিজাহ। ১৯৭০ সালে সেন্ট এলিজাহ আশ্রয়কেন্দ্রটি ইরাকি রিপাবলিকান গার্ডদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরাক দখল অভিযানে টি-৭২ ট্যাংকের গোলায় আশ্রয়কেন্দ্রটির দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইরাক দখলের পর মার্কিন বাহিনীও আশ্রয়কেন্দ্রটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। আশ্রয়কেন্দ্রটি ১ হাজার ৪০০ বছর পুরনো এবং ধারণা করা হয় ৬ষ্ঠ খ্রিস্টাব্দে এটি গড়ে তোলা হয়।
স্টিফেন উড নামে এক পর্যবেক্ষক বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, বুধবার প্রকাশিত স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিতে দেখে ধারণা করা যায় ২০১৪ সালে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আশ্রয়কেন্দ্রটি ধ্বংস করা হয়। তখন আইএসের মসুল দখলের প্রায় তিনমাস পেরিয়ে গেছে। সেসময় দখলের পরও যেসব খ্রিস্টান মসুলে অবস্থান করছিলেন তাদেরকে শহর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল।
উড বলেন, ‘বুলডোজার, ভারি সরঞ্জাম, স্লেজ হ্যামার এবং সম্ভবত বিস্ফোরক ব্যবহার করে আশ্রয়কেন্দ্রটি ধ্বংস করে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইএস এটাকে একেবারেই ধ্বংস করে দিয়েছে।’
নিনেভাহ প্রদেশের একটি নিরাপত্তা সূত্র বুধবার বিবিসিকেও আশ্রয়কেন্দ্রটি গুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, আইএস ইরাক ও সিরিয়ার খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা লক্ষ্য করে দখল অভিযান চালাচ্ছে। দখলের পর খ্রিস্টানদের সম্পত্তি দখল করছে এবং তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করছে। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে কর আদায় করছে কিংবা বাধ্য করছে এলাকা ত্যাগ করতে।
ইতোমধ্যে আইএস বেশ কয়েকটি খ্রিস্টান আশ্রয় কেন্দ্র ও গির্জা ধ্বংস করেছে। ধ্বংস করা খ্রিস্টান স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলাম-পূর্ব সময়ে প্রতিষ্ঠিত ইরাকের বিখ্যাত নিমরুদ, হাত্রা ও নিনেভাহ এবং সিরিয়ার পালমিরা।
১৯৭০ সালে সেন্ট এলিজাহ আশ্রয়কেন্দ্রটি ইরাকি রিপাবলিকান গার্ডদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরাক দখল অভিযানে টি-৭২ ট্যাংকের গোলায় আশ্রয়কেন্দ্রটির দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইরাক দখলের পর মার্কিন বাহিনীও আশ্রয়কেন্দ্রটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।
/এএ/