তেল আবিবে পর্যটকদের ওপর গাড়ি হামলা, নিহত ১

ইসরায়েলের তেল আবিবে ‘গাড়ি হামলায়’ এক পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন। শহরের একটি সমুদ্র সৈকতে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিকে ইতালির নাগরিক আলেসান্দ্রো পারিনি বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঘটনাস্থলের ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ফুটপাতের কাছে গাড়িটি উল্টে আছে। ইসরায়েলি এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালাচ্ছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে অফিসাররা গুলি করে হত্যা করেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গুলিতে শুক্রবার ভোরে দুই ব্রিটিশ-ইসরায়েলি বোন নিহত এবং তাদের মা আহত হওয়ার পর এই হামলা হয়। তারা একটি গাড়িতে ছিলেন। জর্ডান উপত্যকার উত্তরে হামরা জংশনের কাছে তাদের গুলি করা হয়। 

তেল আবিবের পুলিশ জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শহরের সমুদ্র সৈকতের পাশ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। চার্লস ক্লোর গার্ডেনের লনে উল্টে যাওয়ার আগে সেটি বেশ কয়েকজন পথচারীকে আঘাত করেছিলো।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলের পাশে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা হট্টগোল শুনে সেখানে ছুটে যান। দেখেন, এক ব্যক্তি রাইফেলের মতো বস্তু বের করার চেষ্টা করছেন। পরে তাকে গুলি করা হয়।

ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বলছে, অভিযুক্ত বাদে হামলায় মোট আটজন হতাহত হয়েছেন। তারা সবাই পর্যটক। আহতদের মধ্যে তিনজন শক্ত আঘাত পেয়েছেন, চারজনের আঘাত হালকা।

এই হামলাকে কাপুরুষোচিত বর্ণনা করে শোক জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সন্ত্রাস দমনে পুলিশ ও সেনা সংরক্ষিত কর্মীদের একত্রিত করেছেন বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়। ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নেতানিয়াহু।  

দক্ষিণ লেবানন ও গাজা উপত্যকায় হামাসের আস্তানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এ ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলে বৃহস্পতিবার ৩৪টি রকেট ছোড়া হয়েছে। হামলার জন্য হামাসকে দায়ী করেছে তেল আবিব।

এ সপ্তাহের শুরুতে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ইসরায়েলি পুলিশের অভিযানের পর থেকে সেখানে উত্তেজনা চরমে। অভিযানের সময় মসজিদের ভেতর ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের সহিংস সংঘর্ষ হয়।

ইসরায়েলে রকেট হামলার দায় নেয়নি হামাস। তবে সংগঠনটির নেতা ইসমাইল হানিয়াহ লেবানন সফরে বলেছিলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে ফিলিস্তিনিরা চুপ থাকবে না। সূত্র: বিবিসি