ইসরায়েলের জিম্মি মুক্তির অভিযানে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

চার জিম্মি মুক্তির নামে মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ ও নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শনিবারের (৮ জুন) এ হামলায় অন্তত ২১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। আহত হয়েছে চারশোর বেশি মানুষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের (এমএসএফ) এক চিকিৎসক বলেছেন, মধ্য গাজার আল-আকসা হাসপাতাল যেন এক দুঃস্বপ্ন। এখানে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আল-আকসা ও নাসের হাসপাতালে হাজারো গুরুতর আহত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। জনাকীর্ণ হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের আহাজারি শোনা যাচ্ছে। আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

হামলার পর শরণার্থী শিবিরজুড়ে মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, প্রতি মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সবাই মরে গেছে। আমরা তৃতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হয়েছি। এখন কোথায় আশ্রয় নিব জানি না।

একযোগে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে চালানো এ হামলার হামলার জেরে গাজার লাখো উদ্বাস্তুর মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, নুসেইরাত শিবিরে হামলা চালিয়ে চার জিম্মিকে মুক্ত করেছে তারা। অভিযান চলাকালে তাদের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

হামাস জানিয়েছে, নুসেইরাতে অভিযানে বন্দিদের হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে মৃতের সংখ্যা জানায়নি তারা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-আকসা হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক আহত মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু হাসপাতালে খাবার ও ওষুধের অভাব রয়েছে। এছাড়া জ্বালানির অভাবে এর প্রধান জেনারেটরও কাজ করছে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, রাস্তায় এখনো অনেক মৃতদেহ পড়ে আছে। আহত অনেক মানুষও রাস্তায় পড়ে আছেন।

গাজায় গত ৭ অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩৬ হাজার ৮০১ ফিলিস্তিনি। আহত কমপক্ষে ৮৩ হাজার ৬৮০ জন।