ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোটের সেনাদের অবস্থান করা ঘাঁটিগুলোতে রকেট হামলা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও যুদ্ধ পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই রকেট হামলা চালানো হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধের শুরুতে এ ধরনের হামলা ঘন ঘন ঘটত। তবে সম্প্রতি তা অনেকটাই থেমে গেছে।
ইরাকের আনবার প্রদেশের আইন আল-আসাদ ঘাঁটির কাছাকাছি চারটি রকেট আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন এক ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র। অপর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি ড্রোন ও তিনটি রকেট ঘাঁটির সীমানার কাছে আঘাত করেছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী বস্তুগুলো ঘাঁটির বাইরে পড়েছে এবং এতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। সব সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন কারণ তারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুমোদিত নন।
ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর এজোর প্রদেশের কনোকো গ্যাস ক্ষেত্রের কাছে অবস্থিত জোটের ঘাঁটির কাছে অন্তত একটি রকেট পড়েছে।
পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটি জানায়, এলাকাটিতে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রকেটটি ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা। অবশ্য কোনও পক্ষই এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সম্প্রতি ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন সমর্থিত সেনাদের ওপর এ ধরনের হামলা অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছে।
এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি নিরাপত্তা বৈঠকের পর এ হামলা ঘটে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বুধবার জানায়, দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের ধারণায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী, সংযোগ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, এবং প্রচলিত নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গত ১৬ জুলাই আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। যার মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয় এবং এতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। বাগদাদের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা তখন বলেছিলেন, তিনি মনে করেন এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বৈঠকের আগে ইরাকি সরকারকে বিব্রত করা।
গত তিন মাস ধরে, গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠায়, মার্কিন সেনাদের ওপর রকেট এবং ড্রোন হামলা ১৭৫ বারেরও বেশি হয়েছে। এসব হামলা মূলত ইরাক ও সিরিয়ায় হয়েছে।
ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট অধিকাংশ হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
গত জানুয়ারিতে, ওই গোষ্ঠীগুলোর ওপর দোষারোপ করা একটি ড্রোন হামলায় জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন। প্রতিশোধ হিসেবে, মার্কিন বাহিনী তেহরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ডজন খানেক হামলা চালায়।
এরপর থেকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।
বাগদাদ উত্তেজনা কমাতে চেষ্টা করেছে এবং ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় আড়াই হাজার সেনা ইরাকে এবং ৯০০ সেনা সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে মোতায়েন রয়েছে।
২০১৪ সালে ইরাক সরকারের অনুরোধে জোটটি ইরাকে মোতায়েন করা হয় যাতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়। যারা ইরাক এবং প্রতিবেশী সিরিয়ার বিশাল অংশ দখল করেছিল।
আইএস-এর অবশিষ্টাংশ এখনও উভয় দেশে চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে।