সব শ্রেণির অংশগ্রহণে নতুন সরকারের পরিকল্পনা: সিরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব দেশে সব শ্রেণির জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শিবানি। গত মাসে বাশার আল-আসাদের পতনের পর সৌদি আরব সফরে গিয়ে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) তিনি এ তথ্য জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ার নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম বিদেশ সফর। এ সময় সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আল-শিবানি রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আল-শিবানি বলেন, আমাদের এই সফরের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছি যা অংশীদারিত্ব ও দক্ষতার ভিত্তিতে গঠিত হবে। এতে সিরিয়ার সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। একই সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে, যা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে, কৌশলগত অংশীদারত্ব স্থাপন করবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সেবা ব্যবস্থার উন্নতি করবে।

গত ৮ ডিসেম্বর আসাদের পতনের পর ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) আরব দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে যে তারা সব সিরিয়ানদের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং ইসলামি বিপ্লবের পথে হাঁটবে না।

উল্লেখ্য, এইচটিএস একসময় আল-কায়েদার সিরীয় শাখা ছিল, তবে ২০১৬ সালে তারা সম্পর্ক ছিন্ন করে।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরুতে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছিল সৌদি আরব। পরবর্তীতে রিয়াদ আসাদ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটে। ২০২৩ সালে সিরিয়ার আরব লীগে ফেরার বিষয়টি সেই প্রচেষ্টার অংশ, যার লক্ষ্য ছিল দেশটিতে ইরানের প্রভাব কমানো এবং মেথামফেটামিন ক্যাপটাগনসহ মাদক প্রবাহ রোধ করা।

সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সিরিয়ায় শান্তি রক্ষা করা সৌদি আরবের অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্যতম। সূত্রটি আরও জানায়, এই সংকটময় সময়ে আমরা সিরিয়ার জনগণের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মনোনিবেশ করেছি। আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সহায়তা বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।