ইসরায়েলি সেটেলাররা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের তায়বেহ নামের একটি খ্রিষ্টান গ্রামে হামলা চালিয়েছে। সোমবার ভোররাতে চালানো এই হামলায় গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং হুমকিমূলক গ্রাফিতি লেখা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তায়বেহর বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি টিভি সাংবাদিক জেরিয়াস আজার এএফপিকে বলেন, আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি গাড়িতে আগুন। তারা কিছু একটা গাড়ির দিকে ও আমাদের ঘরের দিকে ছুড়ে মারছিল।
আজার বলেন, হামলার সময় তার দুই বছরের সন্তান ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিতে। আমরা পালানোর পর সে একটানা এক ঘণ্টা কেঁদেছে।
পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এলাকা ঘুরে দেখে। ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনী এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে দুটি পুড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি গাড়ি ও গ্রাফিতি পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
একটি ফিলিস্তিনি সরকারি সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে তায়বেহর একটি দেয়ালে গ্রাফিতি লেখা দেখা গেছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘সেটেলারদের সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত স্টেফেন সাইবার্ট। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই চরমপন্থি সেটেলাররা হয়তো দাবি করে যে ঈশ্বর তাদের এই ভূমি দিয়েছেন, কিন্তু তারা আসলে ধর্মের চোখেও অপরাধী।
গত কয়েক মাসে তায়বেহ ও আশপাশের এলাকায় সেটেলারদের বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ঘটেছিল একটি প্রাচীন বাইজেন্টাইন গির্জায় অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে।
মাত্র ১ হাজার ৩০০ জনের বসতি এই তায়বেহ। বাসিন্দাদের বেশিরভাগই খ্রিষ্টান ফিলিস্তিনি এবং অনেকের দ্বৈত মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে। এ গ্রামটি মূলত এর বিয়ার কারখানার জন্য পরিচিত।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে সেটেলাররা বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলাধার।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি গড়ে তুলেছেন। যার মধ্যে প্রায় ২ লাখই বসবাস করেন পূর্ব জেরুজালেমে।
এর মধ্যেই গত সপ্তাহে ইসরায়েলের সংসদ নেসেটের ৭১ জন সদস্য একটি প্রস্তাব পাশ করেছেন। এই প্রস্তাবে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত করার দাবি জানানো হয়েছে।