ইসরায়েলি অভিযানের শঙ্কায় গাজা সিটি ছাড়তে শুরু করেছে ফিলিস্তিনিরা

গাজা সিটিতে আসন্ন ইসরায়েলি স্থল অভিযানের ভয়ে অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার ইতোমধ্যে শহরের পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম ও দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছেন। টানা বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের মধ্যে অনেকে বিকল্প আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। ইসরায়েলের পরিকল্পিত অভিযানে গাজা শহর পুরোপুরি দখলের বিষয়টি দেশ-বিদেশে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসরায়েলের ভেতরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে হাজারো মানুষ যুদ্ধ বন্ধ ও গাজায় আটক থাকা ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির দাবি তুলেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা শহরকে হামাসের ‘শেষ ঘাঁটি’ আখ্যা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে গাজার ৭৫ শতাংশের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে সামরিক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ অভিযানে জিম্মিদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে সেনারা।

গাজার বাসিন্দা তামের বুরাই বলেন, গাজা সিটির মানুষেরা এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মতো, কেবল রায় কার্যকরের অপেক্ষায়। আমি আমার পরিবারকে দক্ষিণে সরিয়ে নিচ্ছি। হঠাৎ হামলায় কাউকে হারাতে চাই না।

আগামী বৃহস্পতিবার গাজা শহরে বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভের ঘোষণা এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার জানাচ্ছেন, যা হামাসের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে কায়রোতে মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন করে যুদ্ধবিরতি আলোচনার চেষ্টা চলছে। আলোচনায় ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র একে ‘শেষ চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। তবে এ পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি হয়নি।

গত জুলাইয়ে ব্যর্থ আলোচনার পর থেকে নতুন কোনও যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি। এবারও হামাস জানাচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও অর্ধেক জিম্মি মুক্তির আলোচনায় প্রস্তুত। তবে ইসরায়েল বলছে, সব জিম্মি মুক্তি ও হামাসের অস্ত্র সমর্পণ ছাড়া তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরিয়ে নিতে তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি চলছে। তবে কতটি তাঁবু আনা হবে, কবে আসবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ফিলিস্তিনি অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আবু জাইয়াব বলছেন, অন্তত এক লাখ নতুন তাঁবু দরকার হবে। পুরোনো তাঁবুগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, বৃষ্টিতেও সুরক্ষা দেবে না।

জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয় জানিয়েছে, গাজায় ইতোমধ্যে ১৩ লাখ মানুষ জরুরি আশ্রয়সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তায় ভুগছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল অভিযানে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গাজায় ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২২ লাখের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ বাস্তুচ্যুত। কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টি ও অনাহারে আরও পাঁচজন মারা গেছেন। অপুষ্টিতে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৩ জনে, যাদের মধ্যে ১১২ শিশু।