থুনবার্গসহ ১৭০ অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রিস ও স্লোভাকিয়া পাঠালো ইসরায়েল

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাওয়া আন্তর্জাতিক নৌযানবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ১৭০ জন অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায় বহিষ্কার করেছে। সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, আটক ৪৭৯ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার থুনবার্গসহ শেষ ধাপের বহিষ্কারের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থুনবার্গের বিমানবন্দরে ওঠার ছবি প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, আটক সবার আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় রামন বিমানঘাঁটি থেকে থুনবার্গের দেশত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। ইসরায়েল বলছে, ফ্লোটিলার এই মানবিক মিশন শুধু একটি প্রচার কৌশল ছিল। বহিষ্কৃতদের মধ্যে গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, জার্মানি, পোল্যান্ড, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন।

অমানবিক আচরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

ফ্লোটিলার সদস্য হিসেবে আটক নয়জন অ্যাক্টিভিস্ট সুইজারল্যান্ডে ফেরার পর অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের ঘুম বঞ্চিত করেছে, পানি ও খাদ্য দেয়নি, কয়েক জনকে মারধর ও লাথি মারা হয়েছে, এমনকি খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিমানবন্দরে গ্রেটা থুনবার্গ। ছবি: রয়টার্স

স্পেন থেকে ফেরত আসা অ্যাক্টিভিস্টরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের একজন আইনজীবী রাফায়েল বোররেগো বলেন, আমাদের মাটিতে টেনে নিয়ে গেছে, চোখ বেঁধেছে, হাত-পা বেঁধে খাঁচায় রেখেছে এবং গালিগালাজ করেছে।

সুইডিশ অ্যাক্টিভিস্টদের অভিযোগ, থুনবার্গকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকা পরানো হয়েছিল। অন্যদেরও খাবার ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আটক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, আটক সবাইকে পানি, খাবার ও টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের আইনি অধিকার পুরোপুরি রক্ষা করা হয়েছে।

রবিবার তেল আবিবে অবস্থিত সুইস দূতাবাস ১০ জন সুইস নাগরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে এবং জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা তুলনামূলক ভালো আছেন।

কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট। ছবি: রয়টার্স

ফ্লোটিলায় থাকা বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাউ বলেন, আমরা কিছুটা নির্যাতনের শিকার হয়েছি, কিন্তু তা ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনকার ভোগান্তির তুলনায় কিছুই নয়।

স্প্যানিশ সাংবাদিক কার্লোস দে বাররন ও নেস্তর প্রিয়েতো জানান, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের হয়ে হিব্রু ভাষায় লেখা নথিতে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে বলা হয়েছে তারা অবৈধভাবে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন। কোনও অনুবাদক দেওয়া হয়নি এবং স্প্যানিশ কনসালকেও বন্দরের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি তারা।

বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনসুলেট জানিয়েছে, তাদের নাগরিকদের সঙ্গে ইসরায়েলি কারাগারে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণ চলছে।

এই ঘটনা ইউরোপজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এটি শুধু মানবিক মিশনের দমন নয়, বরং ইসরায়েলের গাজা অবরোধ নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতির ওপর সরাসরি আঘাত।