ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচারের ঘোষণা ইরানের

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই এমন ঘোষণা দিলো দেশটি। বুধবার ইরানের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে কাজ করছেন তারা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, ইরানে চলমান বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। একটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এই বিক্ষোভকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসাইন মোহসেনি এজেয়ি একটি কারাগার পরিদর্শনের সময় বলেন, ‘যদি কেউ কাউকে হত্যা করে বা শিরশ্ছেদ করে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটায়, তবে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও জানান, এই বিচার প্রক্রিয়া প্রকাশ্য আদালতে হওয়া উচিত।

এর আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা যদি এমন কিছু করে, তবে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’

এ সময় তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘সাহায্য আসছে’।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারিকে সামরিক হস্তক্ষেপের ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনা আবারও ব্যর্থ হবে। তারা অভিযোগ করেছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতেই যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে ইরান সরকার। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশটিতে ১৩২ ঘণ্টা ধরে ডিজিটাল অন্ধকার চলছে। তবে এর মধ্যেই এএফপি নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের দক্ষিণে কারিজাক মর্গে সারিবদ্ধ লাশের ভিডিও পাওয়া গেছে।

এদিকে নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৭৩৪ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে প্রকৃত সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে বলে তাদের শঙ্কা। অন্যদিকে ইরান সরকারের দাবি, তাদের বেশ কিছু নিরাপত্তাকর্মীও বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের দেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বের জন্য এই বিক্ষোভ একটি ‘গুরুতর চ্যালেঞ্জ’। তবে রেভল্যুশনারি গার্ডের মতো শক্তিশালী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে সরকারের পতন হবে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।