কাতারের জনগণের ওপর ইরানের ‘ন্যক্কারজনক’ হামলার পর এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দোহা। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি বলেছেন, এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার কাতারের রয়েছে এবং ইরানকে এর জন্য ‘চড়া মূল্য দিতে হবে’।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বেকি অ্যান্ডারসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-আনসারি বলেন, কাতার বর্তমানে ইরানের সরকারের সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ রাখছে না। এখন তাদের মূল মনোযোগ দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা।
কাতারের এই মুখপাত্র জানান, তার দেশ ইতোমধ্যে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং অসংখ্য ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের এই হামলায় সামরিক নিশানার পাশাপাশি বেসামরিক এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সৌদি আরবের তেল শোধনাগারের কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আল-আনসারি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলজুড়ে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এ ধরনের হামলায় কাতার ‘মর্মান্তিকভাব উদ্বিগ্ন’।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্যাস রফতানিকারক দেশ কাতার ইতোমধ্যে তাদের স্থল ও সমুদ্রসীমানায় অবস্থিত অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে ইরান দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং এটি করার বৈধ অধিকার তাদের রয়েছে।
আল-আনসারি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা একে অপরের সঙ্গে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখছেন।