ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরানের অব্যাহত হামলা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার পথে হাঁটছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল, কিন্তু তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে ইরানের ক্রমাগত আঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের আধিপত্য বিস্তারের আশঙ্কায় পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি না দিলেও সম্প্রতি রিয়াদ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব তাদের পশ্চিম দিকের কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে মার্কিন বাহিনীকে। রাজধানী রিয়াদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ইরানি হামলার মুখে সৌদি আরবের ধৈর্যের সীমা অসীম নয়। কেউ যদি মনে করে উপসাগরীয় দেশগুলো জবাব দিতে অক্ষম, তবে তা হবে একটি ভুল হিসাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন পাল্টাহামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি রয়েছেন এবং যেকোনও সময় দেশটি এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারে।

যুদ্ধ এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের আর্থিক লাইফলাইন লক্ষ্য করে কঠোর ব্যবস্থা শুরু করেছে। দুবাইয়ে অবস্থিত ইরানিয়ান হাসপাতাল ও ইরানিয়ান ক্লাব ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমিরাত সরকার জানিয়েছে, সরাসরি ইরানি শাসনব্যবস্থা ও রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানি ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আমিরাত হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা ইরানি মালিকানাধীন শতকোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করতে পারে। এমন পদক্ষেপ নিলে সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি আরব ও আমিরাত ছাড়াও কুয়েত এবং কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার পর দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। কাতার এই হামলাগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি ও বিপজ্জনক উসকানি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এসব মিত্র দেশ বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি তাদের হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এই দেশগুলোর সামনে সরাসরি যুদ্ধে নামা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।

সূত্র: আনাদোলু