যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা উপত্যকায় মোতায়েন হতে যাওয়া সামরিক বাহিনীতে কোন কোন দেশ সদস্য হিসেবে থাকছে, তা নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে গাজা বিষয়ক জাতিসংঘের হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ নিকোলাই ম্লাদেনভ জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)-এ সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘গাজা সংঘাত নিরসনের সমন্বিত পরিকল্পনা’ অনুযায়ী এই আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজার নিরাপত্তা রক্ষা করবে এবং হামাসের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর দায়িত্ব বুঝে নেবে।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় গত অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনীর বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেই গাজার পুনর্গঠন ও শাসনের তদারকির জন্য ট্রাম্পের নির্দেশে গঠিত কারিগরি পর্ষদ ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা ইতোমধ্যে হাজার হাজার বেসামরিক পুলিশ সদস্য বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে নিয়েছে।
ম্লাদেনভ বলেন, এই কমিটি কেবল অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। মূল লক্ষ্য হলো একটি সংস্কারকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তৈরি করা, যারা গাজা ও পশ্চিম তীর শাসন করবে এবং শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।
ইসরায়েলের হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৮০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। তারা বলছে, এই প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনি ও ইন্দোনেশীয় স্বার্থের অনুকূলে হতে হবে। এ ছাড়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকেও একটি জটিল ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছে দেশটি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করেননি; বরং তুর্কি বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ম্লাদেনভ নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, তুরস্ক ও কাতারের সহায়তায় গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রকরণ ও পুনর্বাসনের একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। তিনি হামাসসহ সব ফিলিস্তিনি পক্ষকে এই রূপরেখা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটিই ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই