লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

আগামী শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্বাক্ষর হতে যাওয়া এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যকার সব ধরনের শত্রুতা পূর্ণাঙ্গভাবে অবসানের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজ একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবং সৌদি আরবের আল অ্যারাবিয়া ১৪ দফার এই চুক্তির সম্পূর্ণ অনুলিপি প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান ইরানের বর্তমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং ভবিষ্যতের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও দেশটির বেসামরিক পারমাণবিক চাহিদার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করবে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা থেকে বিরত থাকবে। এছাড়া ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে ওয়াশিংটন। এর বিপরীতে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনার সময়ে হরমূজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক পরিমাণে বাণিজ্যিক নৌচলাচল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, সমঝোতা কার্যকর হলে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করা হবে। আর স্থায়ী চূড়ান্ত চুক্তি হলে অঞ্চল থেকে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানে বিনিয়োগ ও পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথাও রয়েছে।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যা টক্লিফ ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে চুক্তির আনুষ্ঠানিক শর্তাবলি সম্পর্কে এখনও ইসরায়েলকে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছে চ্যানেলটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরুজালেম সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছিল, কিন্তু তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

চ্যানেল ১২-এর বরাতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের আশঙ্কা হলো ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরান তার কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে আরও অগ্রসর হতে পারে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর কোনও ইচ্ছা নেই। বরং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই তিনি এই সমঝোতা স্মারক অনুমোদন করেছেন বলে তারা মনে করেন।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইসরায়েলি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করবে এবং ৬০ দিনের আলোচনা আরও অনেক দীর্ঘ হতে পারে।

চ্যানেল ১২-কে এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, আলোচনার আড়ালে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সময়সীমা কমিয়ে আনতে ইরান যদি সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টা ও কৌশল ব্যবহার করে, তাহলে তা বিস্ময়কর হবে না।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল