খামেনির জানাজায় শরিক হয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

গত সপ্তাহে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায়। আর চলতি সপ্তাহে তিনি ওভাল অফিসে এসে হাত মেলালেন সেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে, যার নির্দেশে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই খামেনিকে হত্যা করা হয়েছিল। ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির এমন অবিশ্বাস্য ও বিপরীতমুখী পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।

বিগত দুই দশকের অন্যান্য ইরাকি প্রধানমন্ত্রীদের মতোই ৪০ বছর বয়সী জাইদিকেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখার এক কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে দুই পক্ষ যখন একে অপরের দিকে গুলি ছুড়ছে, তখন এই কাজ আরও দুরূহ।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা শেষে গত মে মাসে ক্ষমতা নেওয়া এই ব্যবসায়ী-রাজনীতিককে শিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনও সমর্থন দিয়েছিল। হোয়াইট হাউস মনে করে, জাইদি তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির মতো তেহরানের ওপর নির্ভরশীল নন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে সাবধানে পা বাড়াচ্ছেন।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাইদি যেন তার প্রথম বিদেশ সফরে ওয়াশিংটনে না যান, সেজন্য ইরান তার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু জাইদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে অনড় ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে জাইদির ‘ইরাক ফার্স্ট’ নীতি এবং ইরান থেকে দূরে সরে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়ার একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন। ওভাল অফিসে জাইদির উপস্থিতিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের একটি বিশাল বিজয় হিসেবে গণ্য করেছেন।

বৈঠকে ট্রাম্প ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই জাইদির জন্য একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একজন দুর্দান্ত বিজয়ী নেতাকে পেয়েছি। তিনি একজন বড় যোদ্ধা এবং আমেরিকার একজন গুণগ্রাহী। আমার মনে হয় তিনি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকবেন।

ট্রাম্প যখন পাশে বসে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ ও হামলা অব্যাহত রাখার কথা বলছিলেন, জাইদি তখন ক্যামেরার সামনে নীরব ছিলেন। তিনি ইরানের বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করে বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করা এবং দেশের সমস্ত অস্ত্র ইরাক সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করার বিষয়ে কথা বলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠকেও এই মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করার বিষয়টিই প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ইরানের বিরোধিতা সত্ত্বেও ট্রাম্পের পাশে জাইদির এভাবে বসে থাকাটা একটি শক্তিশালী বার্তা, যা আমেরিকার সঙ্গে তার মিত্রতার গুরুত্বকে প্রমাণ করে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস