গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেরা বা ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? বিমানে ওঠার আগে নিজের লাগেজ গোছানোর সময় নিষেধাজ্ঞার তালিকাটি দেখে নেওয়া জরুরি। আমিরাতি প্রশাসন ও ভারতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যুরোর নিয়ম অনুযায়ী, বিমানে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও নানা জিনিসের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
খাবার ও মশলা সংক্রান্ত নিয়মাবলী:
- সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: শুকনো নারকেল এবং গুঁড়ো বা কুচানো শুকনো নারকেল বহনে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া পান বা রান্না করা কোনও খাবার আমিরাতে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
- শুধু চেক-ইন ব্যাগেজে অনুমোদিত: মরিচসহ সব ধরনের গুঁড়ো বা গোটা মশলা, আস্ত নারকেল এবং ঝাল মরিচের আচার হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া যাবে না, এগুলো কেবল চেক-ইন ব্যাগেজে নেওয়া যাবে।
- কেবিন ও চেক-ইন উভয় ব্যাগেজে অনুমোদিত: তাজা সবুজ কুচানো নারকেল এবং সাধারণ আচার উভয় স্থানে নেওয়া যাবে। ঘি বা রান্নার তেল নিয়ম মেনে কেবিন লাগেজে নেওয়া যাবে এবং চেক-ইন লাগেজে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি/লিটার নেওয়া সম্ভব।
- অন্যান্য খাবার নিষেধাজ্ঞা: তীব্র গন্ধযুক্ত ফল যেমন ডুরিয়ান, শ্যাম্পেডেক, পেদালাই, মারাং এবং কাঁঠাল বহন করা নিষিদ্ধ।
ওষুধপত্রের ক্ষেত্রে কঠোরতা
নিয়ন্ত্রিত কোনও ওষুধ আমিরাতে নিয়ে যেতে হলে যাত্রার আগেই সেদেশের স্বাস্থ্য ও প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। সঙ্গে অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রাখতে হবে। তবে অনিয়ন্ত্রিত বা সাধারণ ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধের জন্য পূর্ব অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। এছাড়া পোস্তদানা, হাশিশ, কোকেন, হেরোইন এবং বিভ্রম সৃষ্টিকারী যেকোনও মাদক বা অবৈধ উপাদান বহন পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
অন্যান্য নিষিদ্ধ বা কড়াকড়ি থাকা সামগ্রী:
ক্রিকেট ব্যাট, স্কেটবোর্ড, বড়শি, খেলনা পিস্তল বা নকল অস্ত্র, তির-ধনুক, ৬ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় ব্লেডযুক্ত ছুরি, বিস্ফোরক, বাজি ও পটকা বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি মাপার ফিতা হ্যান্ড লাগেজে রাখা যাবে না।
উল্লেখ্য, বিমানভ্রমণের আগে ব্যাগেজ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়ম জানতে সবসময় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়া উচিত। কারণ কাস্টমস ও বিমান চলাচলের নিয়ম যেকোনও সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ